Search This Blog
Friday, March 25, 2011
ঢাকাই হাতি : মোগলদের একটি বড় বিনোদন ছিল হাতির লড়াই
Wednesday, January 19, 2011
গাছশূন্য হয়ে পড়ছে ঢাকা

উদ্ভিদবিদরা বলছেন, শিকড় বিস্তারে যতটা জায়গা থাকার কথা, ঢাকার গাছগুলো সেটুকু না পেয়ে মরে যাচ্ছে। এর ফলে দিন দিন গাছশূন্য হয়ে পড়ছে ঢাকা। তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন সুদীপ্ত সালাম, সাপ্তাহিক ২০০০
রাজধানী ঢাকা পুকুর নেই খালও নেই
by সাপ্তাহিক ২০০০ শুক্রবার 30 এপ্রিল 2010

মৎস্য অধিদপ্তরের এক তথ্যে জানা যায়, ঢাকা মহানগরের পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে ঢাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল ২ হাজার এবং ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালের দিকে কমে তা ১ হাজার ২শতে নেমে আসে। তিন বছর আগে মৎস্য ভবন থেকে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে তা ২শতে নেমে এসেছে। মৎস্য ভবনে কর্মরত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঢাকা শহরের পুকুরগুলো আমাদের আয়ত্তের মধ্যে না হলেও আমরা একটি সার্ভে করেছিলাম, যেখানে ২শর অধিক পুকুর পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমানে অনেক পুকুর ভরাট করায় এই সংখ্যা আরও কমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হিসাব করলে ডোবা ও পুকুরের সংখ্যা ১শর অধিক হবে না। ঢাকা শহরে পুকুরের সঠিক সংখ্যা কত তার হিসাব নেই ঢাকা সিটি করপোরেশনে। এমনকি অতীতে কতটি ছিল তার কাগজও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুকুরের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ডিসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ঢাকা শহরের পুকুর সম্পর্কে আমার কোনও তথ্য জানা নেই। ডিসিসির অধীনে কতটি পুকুর আছে তার হিসাব মশক নিয়ন্ত্রণ শাখা বলতে পারবে, কারণ পুকুরে ওষুধ ছিটানোর কাজ তারাই করে। মশক নিয়ন্ত্রণ শাখার ঊর্ধ্বতন কীট-নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ডা. নাসিম উস-সেরাজ এ ব্যাপারে বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি কত পুকুর আছে তার হিসাব আমার জানা নেই। আমাদের কাগজে এর হিসাব থাকলেও মূলকপিসহ সব কাগজ দুদকে পাঠানো হয়েছে। কোনও ফটোকপি কিংবা এ ব্যাপারে কোনও তথ্য এখানে নেই। ডিসিসি সূত্রে জানা যায়, ১০টি অঞ্চলে মোট পুকুর ও ঝিলের পরিমাণ ৫ হাজার ১শ ৪২ বিঘা। এর মধ্যে ১ নং অঞ্চলে পুকুর আছে ১ হাজার ২২ বিঘা, ৩ নং অঞ্চলে ২শ ৭০ বিঘা, ৪ নং অঞ্চলে ১ হাজার ৪২ বিঘা, ৫ নং অঞ্চলে ১শ ৭৪ বিঘা, ৬ নং অঞ্চলে ৫শ ৭ বিঘা, ৭ নং অঞ্চলে ৪শ ৬২ বিঘা, ৮ নং অঞ্চলে ৫শ ৫৩ বিঘা, ৯ নং অঞ্চলে ৬শ ৫৮ বিঘা, ১০ নং অঞ্চলে ১শ ৭৫ বিঘা এবং ঝিল আছে ১শ ৭৫ বিঘা। এর মধ্যে ২ নং অঞ্চলে রয়েছে নবাববাড়ি পুকুর, নয়াবাজারে হাজি আবদুর রশীদ লেনের বংশাল পুকুর ও আলু বাজারের সিক্কাটুলী পুকুর। এছাড়া অঞ্চল ৫-এ ৪৯ থেকে ৫৭ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত আছে ১৮টি পুকুর, অঞ্চল-৩-এ আছে ২১টি এবং অঞ্চল-৬-এ আছে ২০টি পুকুর। এগুলোর কোনটি সরকারি আর কোনটি ব্যক্তিমালিকানাধীন তার হিসাব ডিসিসিতে নেই। পুকুরের সঠিক হিসাব সম্পর্কে পূর্ত বিভাগের উন্নয়ন ও সমন্বয় শাখাতে যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনও হিসাব দেখাতে পারেনি।
ঢাকা শহরের বাসিন্দা আহমেদ মুসা বলেন, আগে অসংখ্য পুকুর থাকলেও বর্তমানে তা ভরাট করে বাসাবাড়ি করা হয়েছে। শাহবাগে বড় দুটি পুকুর ছিল, যার একটি আজিজ সুপার মার্কেট এবং অন্যটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব হল ও জিয়া হল করা হয়েছে। বাংলাভিশনের বিল্ডিংও ছিল বড় একটি পুকুর। আজিজ সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশেও একটি পুকুর ছিল, যেখানে পাওয়ার হাউস করা হয়েছে। ২২ তোপখানা রোডেও একটি পুকুর ছিল। যেখানে ওয়ার্কার্স পার্টির অফিসের বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। শহরের শান্তিনগরের পীর সাহেবের গলিতেও অনেক বড় একটি পুকুর ছিল কিন্তু চারদিক থেকে ভরাট করার কারণে এটা এখন ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। শহরের ঝিগাতলা, রায়েরবাজার এলাকায় প্রচুর ডোবা ছিল। এখন এ ডোবাগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বহুতল ভবন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার দুবছরের মধ্যে সরকার নিজেই আইন অমান্য করে বাসাবো, খিলগাঁও, রাজারবাগ এলাকায় যে পরিমাণ পুকুর ছিল তার প্রায় সবই ভরাট করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুকুর,কমলাপুর রেল স্টেশনের পূর্ব দিকে রেলের ঝিল, আহমদবাগ এলাকার ঝিলের নাম মানচিত্র থেকে উঠে গেছে। পুলিশ লাইনের পুকুরে বর্তমানে গাড়ি পার্ক করা হয়। রেলওয়ের ঝিল দুটিতে হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টার হচ্ছে। খিলগাঁও-এর বিখ্যাত পুকুর হয়ে গেছে খেলার মাঠ। পুরান ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্য সিক্কাটুলী পুকুরটিও হুমকির মুখে। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, একটি অসাধু গোষ্ঠী জাল দলিল করে পুকুরটি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা করছে। দখলকারীরা পুকুরের কিছু অংশ ভরাট করে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করছে। তারা সিক্কাটুলী পুকুর উদ্ধার করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঢাকা শহরে পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ছে সে সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কাজী মোঃ ফজলুল হক বলেন, পুকুর ভরাটের ফলে প্রতিটি জীবের জীবন বৈচিত্র্যে ব্যাঘাত ঘটছে। পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। অল্প বৃষ্টিতে পানি বের হওয়ার জায়গা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কোথাও আগুন লাগলে পাশে পুকুর থাকলে পানি দিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব কিন্তু পুকুরের অভাবে এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হচ্ছে।
মহানগরের বাইরেও কমছে পুকুর
ঢাকা মহানগরের বাইরে সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহারেও কমছে পুকুরের সংখ্যা। ফলে এসব পুকুরে মাছের উৎপাদনও কমে এসেছে। আগে সরকারি পুকুর ছিল ১২৫টি, যার পরিমাণ ৭৫.৮২ হেক্টর এবং বেসরকারি ছিল ৬ হাজার ৭শ ১৩টি, যার আয়তন ৪৯৮৫ হেক্টর। ২০১০ সালের হিসাব অনুসারে খাস পুকুরের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও বেসরকারি পুকুরের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭শ ২৯টিতে। অর্থাৎ ১ হাজার ৯শ ৮৫টি পুকুর কমে গেছে। এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার মানুষ পুকুর ভরাট করে বিল্ডিং তৈরি করছে। এছাড়া এ অঞ্চলের মানুষদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুকুর ভরাট করে বিক্রি করছে। ফলে পুকুরের সংখ্যা কমে আসছে।
অবশিষ্ট কিছু পুকুর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুর নিয়ে কুসংস্কার ছিলÑ এখানে গোসল করতে গেলেই মারা পড়ে লোকজন। এই কুসংস্কারের ভিত্তিটা যে কতটা পাকাপোক্ত সেটা টের পাওয়া যায় কর্তৃপরে সতর্কবাণী দেখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পুকুর আর জহুরুল হক হলের পুকুরেও সাঁতরানো যায় অনায়াসে।
রমনা পার্কের পুকুরটি অসম্ভব রকম সুন্দর। চারদিকে স্নিগ্ধ সুন্দর প্রকৃতি। তার মাঝখানে টলটলে জলাধার। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। তাই এখানে এলে পুকুরে নামতে ইচ্ছা করবেই। চাইলে পুকুরে সাঁতার কাটতে পারেন। তবে ততণ, যতণ পাহারাওয়ালার চোখে না পড়ে।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরে পুণ্যার্থীরা স্নান সারতে আসেন নিয়মিত। পুণ্য লাভের আশায় না হোক, গরম থেকে বাঁচতে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন আপনিও। কদমতলা-রাজারবাগের শ্রীশ্রীবরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে রয়েছে গঙ্গাসাগর দিঘি। এই দিঘিটি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বিশাল। দেখতে খুবই মনোরম। বহু লোক প্রতিদিন এখানে আসে গোসল সারতে। সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারের পুকুরও উন্মুক্ত রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখানে চাইলে যে কেউ এসে সকাল-সন্ধ্যা সাঁতার কাটতে পারবে। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী-ইসলামপুরের নবাববাড়ির পুকুরে নামতে হলে অবশ্য কিছু টাকা খরচ করতে হবে। মাত্র তিন টাকাতেই মেলে এখানে গোসল করার অনুমতি। তবে এই পুকুরে গোসলের সময় কোনও ধরনের সাবান ব্যবহার করা যায় না।
পুরান ঢাকার বংশাল পুকুরে রয়েছে সিঁড়িসহ দুটি ঘাট। বংশালের পুকুরটি ছয় বিঘা জমির ওপর কাটা। ১৮৪০ সালের আগে এলাকাবাসীর পানি সমস্যা সমাধানের জন্য বংশালের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও জমিদার হাজি বদরুদ্দীন ভুট্টো নিজ জমিতে খনন করেন এ পুকুর। এ কারণে পুকুরটি ভুট্টো হাজির পুকুর হিসাবেও পরিচিত। প্রায় ৪শ ফুট লম্বা ও ২শ ৫০ ফুট চওড়া এ পুকুরটির গভীরতা ৩০ থেকে ৪০ ফুট। পুকুরটির চারদিকে পাকা বেষ্টনী ও রাস্তা। রাস্তার পাশ ধরে পুকুরের চারদিকে সারিবদ্ধভাবে লাগানো আছে নারকেল গাছসহ অন্যান্য গাছ। টলটলে স্বচ্ছ পানিতে এসব গাছের ছায়া সৃষ্টি করে নৈসর্গিক সৌন্দর্য। পুকুরটির চারদিকেই লোহার গ্রিল দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী, যাতে কোনও শিশু পানিতে না পড়ে যায়। পুকুরটির উত্তর ও দণি পাশে রয়েছে দুটি শান বাঁধানো ঘাট। ঘাট দুটির প্রবেশপথে আছে লোহার গেট আর ওপরে ছাউনি। উত্তর পাশের ঘাটটি ব্যবহার করেন বংশালে বসবাসরত ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দারা, আর দণি পাশের ঘাটটি বাইরের লোকের জন্য। এজন্য এ পাশের ঘাটে বসানো হয়েছে টোল ব্যবস্থা। প্রতিবার গোসলের জন্য প্রত্যেককে দিতে হয় দুটাকা। দণি ঘাটের পাশেই পুকুরের পানিতে বসানো হয়েছে পানির পাম্প। তার ওপরে পাকা পাটাতনের ওপর আছে পানির ট্যাঙ্ক। পাম্পে তোলা এ পানি এলাকাবাসী ব্যবহার করছে খাবার ও রান্নাবান্নার কাজে।
পুকুরটি নিয়ে ভুট্টো হাজিরই বংশধর ও ঘাটের টোল আদায়কারী মোজাফফর হোসেন বলেন, এই দণি ঘাটেই প্রতিদিন ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৫শ লোক গোসল করে। সে হিসাবে দুঘাটে প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার লোক গোসল করছে। তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকাসহ এ নগরীতেই এক সময় আরও অনেক বড় পুকুর বা দিঘি ছিল, বর্তমানে সেগুলোর কোনও অস্তিত্ব নেই, বিলীন হয়ে গেছে রণাবেণের অভাবে।
নওয়াব আবদুল বারীর পুকুর
আহসান মঞ্জিল পরিবারের নওয়াব আবদুল বারীর খননকৃত বিশাল পুকুর। সময়টা ১৮৩৮ সাল। প্রায় ১৭১ বছরের পুরনো ইতিহাস। আর অনেক উত্থান-পতনের সাী এই গোল তালাব বা গোল পুকুর। বড় বড় বিল্ডিংয়ের ঘেরাটোপে একখ- কোমল স্নিগ্ধতা এই পুকুর। অনেক চড়াই-উত্তরাই পেরিয়ে আজ এই পুকুর পরিচালিত হচ্ছে মৌলভি খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে। এই ট্রাস্ট পরিচালিত হচ্ছে নওয়াব পরিবারেরই বংশধর, স্থানীয় মুরব্বিদের দ্বারা। এখানে গোসলের ব্যবস্থা আছে কিন্তু কাপড় কাঁচা, সাবান ব্যবহার করা নিষেধ। মৌলভি খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই প্রতিবছর এই পুকুর পাড় ঘিরে আয়োজিত হয় মীনা বাজার, মেলা, মাছ ধরা প্রতিযোগিতা। আর প্রতিদিন বিকালের আড্ডা তো আছেই।
৪টি খাল নিশ্চিহ্ন, ১৩টি থেকেও নেই
ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার মূল কারণ অবৈধভাবে খাল দখল ও ভরাট করা। স্বাধীনতার আগে এ শহরে ৪৭টি খাল ছিল। বেশিরভাগ খালের প্রস্থ ছিল ১৫০ ফুটের বেশি। খালপথে নগরের পানি নিষ্কাশিত হতো। স্বাধীনতার পর মাত্র তিন যুগের ব্যবধানে ঢাকা মহানগর এলাকার ২৫টি খাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ২২টি খালের অস্তিত্ব থাকলেও সেগুলো ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। শাহবাগ থেকে মগবাজার পর্যন্ত খাল ছিল, ঢাকা ওয়াসার মানচিত্রে এর নাম পরীবাগ খাল। তবে সেখানে এখন খালের কোনও চিহ্ন নেই, খালটি এখন সোনারগাঁও সড়ক। পরীবাগ খালের মতোই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ঢাকার অবশিষ্ট খালগুলো। রাজধানীর পানি খালগুলো দিয়েই বুড়িগঙ্গাসহ আশপাশের নদীতে গিয়ে পড়ছে। খালগুলো বেদখল হওয়ায় পানি আটকে প্রতিবছরই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যা দুর্ভোগে ফেলে নগরবাসীকে। বর্তমানে পরীবাগ, রায়েরবাজার, আরামবাগ ও গোপীবাগ এ চারটি খালের কোনও অস্তিত্বই নেই।
প্রায় এক যুগ আগে শাহবাগ থেকে উৎপত্তি হয়ে বড় মগবাজার পর্যন্ত পরীবাগ খাল, কাটাসুর খাল হতে উৎপত্তি হয়ে সরাইজাফরাবাদ ও সুলতানগঞ্জ মৌজার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রায়েরবাজারের বেড়িবাঁধ পর্যন্ত রায়েরবাজার খাল, বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত আরামবাগ খাল এবং গোপীবাগ থেকে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন দিয়ে আরামবাগ খাল পর্যন্ত গোপীবাগ খাল ছিল। নগর কর্তৃপরে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সময়ের ব্যবধানে খালগুলো সড়কে পরিণত হয়েছে।
রাজাবাজার খাল, ধোলাইখাল-১, ধোলাইখাল-২, শাহজাহানপুর খাল, গুলশান-বনানী খাল, ধানমন্ডি খাল, দণিগাঁও-নন্দীপাড়া খাল, রাজারবাগ-নন্দীপাড়া খাল, নাসিরাবাদ-নন্দীপাড়া খাল, নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী খাল, ডুমনি খাল, বাউখার খাল এবং গোবিন্দপুর খালÑ এ ১৩টি খাল থেকেও নেই! এর মধ্যে রাজাবাজার খাল (রাজাবাজার পশ্চিম পাশ থেকে হোটেল সুন্দরবন পর্যন্ত), ধোলাইখাল-১ (দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু থেকে ধোলাইখাল-২ পর্যন্ত), ধোলাইখাল-২ (বুড়িগঙ্গা নদী থেকে সূত্রাপুর, গে-ারিয়া, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী শহর ঢাকা মৌজা (পুরান) হয়ে দয়াগঞ্জ বাজার পর্যন্ত, ধানমন্ডি খাল, নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী খালে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
ঠিকমতো দেখভাল না হওয়ায় বাকি খাল সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা শহরের খালগুলো ধ্বংসের একটি বড় কারণ ঋণপ্রদানকারী গোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিবেশ বিষয়ে উদাসীনতা। সরু বক্স কালভার্ট, সড়ক ও ভবন নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে বন্ধ করা হয়েছে খাল। এসব কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা বা আর্থিক জোগান দিয়েছে ঋণপ্রদানকারী গোষ্ঠী। উন্নয়নের নামে খাল ভরাট করে নর্দমায় রূপান্তর কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ আইন ১৯৯৫, পরিবেশ নীতিমালা, বেঙ্গল ক্যানেল অ্যাক্ট ১৮৬৪ ও জলাধার সংরণ আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। জলাশয়বিহীন রাজধানী জনজীবনের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠবে। দেখা দেবে ভূমিকম্প, জীববৈচিত্র্য হবে তিগ্রস্ত। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশসঙ্কটের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা যা শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতির জন্যও নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনবে।
Tuesday, January 18, 2011
বাড়িওয়ালা বনাম ভাড়াটে
যেভাবে বেঁচে আছি:
বাড়িওয়ালা বনাম ভাড়াটে| তারিখ: ১৬-০১-২০১১

বাড়িওয়ালাদের অন্যায় দাবি
কোনো একসময় মানুষ তাঁর এক-তৃতীয়াংশ আয় দিয়ে আবাসন নিশ্চিত করতে পারলেও এখন সাধারণ মানুষের পক্ষে তা অনেকটাই কঠিন। রাজধানী ঢাকার প্রায় সব এলাকার বাড়িওয়ালারা প্রতিবছর জানুয়ারি মাস থেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ভাড়া দাবি করেন। মাত্র তিন বছর আগে যে বাসার ভাড়া ছিল পাঁচ হাজার টাকা, তা এখন প্রায় নয় হাজার টাকায় এসে ঠেকেছে। অথচ এই অনুপাতে সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। বাসা ভাড়ার টাকা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। বাড়িওয়ালারা ধরে নিয়েছেন, বাড়ি থাকলে ভাড়াটের অভাব হবে না। আবার বারবার বাসা বদলের বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে অনেক ভাড়াটে বাড়িওয়ালার কথাই মেনে নিচ্ছেন।
বছরের পর বছর এভাবে মাত্রাতিরিক্ত হারে বাসা ভাড়া বাড়ানো চলতে থাকলে আমাদের মতো যারা একবুক আশা নিয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করতে আসে, তাদের হয়তো নিদারুণ অর্থকষ্ট মেনে নিতে হবে। এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করি। না হলে সরকার মানুষের বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে।
রাহুল বারুরী রিপন
সিএসই প্রথম বর্ষ, ঢাকা সিটি কলেজ
‘বাড়িভাড়া লাগামহীন ভাড়াটেদের খবর নিন’
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যখন-তখন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা বর্তমানে বাড়িওয়ালাদের অন্যতম নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়ার ফলে স্বল্প আয়ের লোকজনকে নগরে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী লোকজনকে তাঁদের আয়ের সিংহভাগ শুধু বাড়িভাড়ায় ব্যয় করতে হয়। এতে জীবনের অন্যান্য ব্যয়নির্বাহ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বছর বছর বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ছাড়াও অনেক বাড়িওয়ালা বছরে একাধিকবার বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন। বাড়ির মালিকদের ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক হওয়ার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকে না। ঝগড়া-বিবাদ ও মনোমালিন্য লেগেই থাকে। ব্যাপক হারে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করলে সব বাড়ির মালিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান। আর সেই ভাড়াটে যেন ওই এলাকায় আর কোনো বাড়িতে উঠতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করেন। ভাড়াটেদের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এখনই প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণহীন বাড়িভাড়াবিরোধী নাগরিক আন্দোলন জোরদার করা। বাড়িওয়ালা কর্তৃক ভাড়াটেদের ওপর মানসিক নির্যাতন এবং অগ্রিমের নামে ইচ্ছেমতো জামানত আদায়ের দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
হোসাইন মুহাম্মদ ইফতেখারুল হক
সাধারণ সম্পাদক
আল-হেরা কনসোর্টিয়াম, বাংলামোটর, ঢাকা
ভাড়া বাড়ানোর লাল সংকেত!
রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগ বাসিন্দার নিজস্ব বাড়ি না থাকায় তাঁদের ভাড়া করা বাসায় বসবাস করতে হয়। এই ভাড়া মেটাতে গিয়ে তাঁদের অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ দিয়ে দিতে হয় বাড়িওয়ালাদের। ফলে অন্যান্য খাতের খরচ মেটাতে টানাটানিতে পড়েন অনেকেই। আবার বাড়িওয়ালারাও বছরের শুরুতে ইচ্ছেমতো ভাড়ার অঙ্ক বাড়িয়ে চলছেন। বাসস্থানসংকটের কারণে তা মেনেও নিচ্ছেন নিরুপায় ভাড়াটেরা। কয়েকবার বাড়িভাড়া কমানোর জন্য দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেউ। ফলে ভাড়াটেরা শিকার হচ্ছেন বর্ধিত ভাড়ার। এ বছর জানুয়ারি মাস আসার আগেই ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়ানোর লাল সংকেতও দিয়ে রেখেছেন। আমি নিজেও ওই সংকেতের বাইরে নই। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঢাকা শহরের ভাড়াটেদের ভোগান্তি দূর করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. আলী আহমেদ
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ
সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা
আমাদের কথাও ভাবুন
কিছুদিন আগে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় ভাড়াটেদের একটি সংগঠন সমাবেশ করে। সমাবেশে বাড়িভাড়া প্রসঙ্গে ভাড়াটেরা নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে বাড়ি ভাড়াকে একটি আইনানুগ নিয়মের অধীনে আনার কথা বলেন বক্তারা।
একজন বাড়িওয়ালা হিসেবে আমি আমার নিজের বাড়িভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণগুলো তুলে ধরছি। পুরান ঢাকায় একটি মাঝারি মানের ফ্ল্যাট বানাতে খরচ অন্তত ১০ লাখ টাকা। সেটি তৈরি হওয়ার পর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া হলে বাড়িওয়ালার লগ্নি টাকা উঠে আসতে সময় লাগে পাঁচ-ছয় বছর। এ ছাড়া ফ্ল্যাটের নানা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কিছু অর্থ খরচ করতে হয়। দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাড়া কিছুটা না বাড়ালে বাড়িওয়ালাদের গতি থাকে না। আবার সরকার প্রতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের খুশি রাখতেও কিছু টাকা খরচ করতে হয়। এসবের বিল মিটিয়ে বাড়িওয়ালার হাতে খুব বেশি টাকা থাকে না।
অনেক বাসায় ভাড়াটে নিজ নিজ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করেন। সেখানে দুষ্ট প্রকৃতির ও চতুর ভাড়াটে অনেক বিল জমিয়ে সরে পড়েন। অন্যদিকে বাড়ির পৌরকর, খাজনা ইত্যাদি পরিশোধ করতেও জায়গায় জায়গায় উৎকোচ দিতে হয়। তাই বলা যায়, সব বাড়িওয়ালা অযৌক্তিক ভাড়া নেন না। আবার কিছু বাড়িওয়ালা সত্যিই অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ান। এটা বন্ধ করা দরকার। গুটিকয়েক বাড়িওয়ালার অসাধুতার দায়ভার সব বাড়িওয়ালা কেন নেবেন?
আর ভাড়াটেরাও সব ক্ষেত্রে সঠিক আচরণ করেন না। অনেক ভাড়াটে দরকার ছাড়াই পানির কল ছেড়ে কিংবা বৈদ্যুতিক বাতি জ্বেলে রাখেন। আবার কোনো কোনো ভাড়াটে বাড়ি ভাড়ার সময় দু-তিন সদস্যের নির্ঝঞ্ঝাট পরিবারের কথা বলে বাসায় তোলেন তারও বেশি সদস্য।
বাড়িওয়ালাকে মূর্তিমান আতঙ্ক না ভেবে সমঝোতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের সম্পর্ক সুদৃঢ় করা যায়। আর ভাড়াটেরা সরকারিভাবে যে আইন প্রণয়নের কথা বলছেন, সেটি প্রণয়ন করা হোক। কিন্তু আইনে যেন উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়।
মোহাম্মদ হানিফ
১ গোয়ালঘাট, ঢাকা
Source: Daily Prothom-alo
রাতের রাজপথ বাসের দখলে

এসব স্থানে বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপের আস্তানাও বটে। সরেজমিনে দেখা যায়, কমলাপুর-শাহজাহানপুর রাস্তার উভয় পাশে এবং এর আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের আড়ালে চলে গাঁজা বিক্রি, সেবন, ছিনতাই এমনকি দেহ ব্যবসা। কমলাপুর-শাহজাহানপুর রাস্তার ডানপাশ দিয়ে এগিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের ওপর চাদর ও ছালা দিয়ে তৈরি ২-৩টি ছাউনি। বাসের আড়াল ও রাস্তার বাতিগুলো অকেজো হওয়ায় এই ছাউনিগুলোর ভেতরে সারারাত চলে দেহ ব্যবসা। রাজা নামক এক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে চলে এখানকার অবৈধ কার্যক্রম। মিরপুর ১৪ নম্বর চাইনিজ রেস্টুরেন্টের পাশেই মিরপুর-গুলিস্থান রুটের ১৪ নম্বর বাসের ভেতরই চলে অভিনব উপায়ে দেহ ব্যবসা। সামনের দুই সিট একসঙ্গে করে কয়েল জালিয়ে ঘুমের ভান করে পুলিশ ও পথচারীর দৃষ্টি সরিয়ে রাখে, তৎপর একাধিক হ্যান্ডশেক পার্টি ।
গুলিস্তানে দোকানদাররা জানান, রাত হলেই এখানে বাসের আড়ালে ও আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকে বিভিন্ন ছিনতাইকারী, চোর ও মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীরা; কিন্তু দেখে বোঝা যাবে না এরা ছিনতাইকারী, না বাসের স্টাফ। কিছুদিন আগে এক পথচারীর ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। আর মোবাইল চুরি তো আছেই। এ ব্যাপারে এক পুলিশ সদস্য জানান, আমাদের উপস্থিতিতে কোনো কিছু হয় না।
ঢাকা শহরের সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, গুলিস্তান, কল্যাণপুরসহ ৭টি বাস ডিপো বা টার্মিনাল রয়েছে। এসব ডিপোর কাছে বিভিন্ন বেসরকারি কাউন্টার বা টার্মিনাল গড়ে ওঠায় বিপাকে পড়েছেন এর কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীসাধারণের। সরেজমিনে দেখা যায়, মতিঝিল বিআরটিসি বাস ডিপো একটি আন্তর্জাতিক ডিপো হলেও বেসরকারি বাসগুলো দিনরাত পার্কিংয়ের কারণে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের হয়রানি হতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল ডিপোর ঊর্ধ্বতন একজন ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান, এসব সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে আমরা ২০০৭ সাল ও গত ১৪ জুলাই এসব বাস সার্ভিসের কাউন্টারগুলো অপসারণের জন্য উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক (পূর্ব) ডিএমপি বরাবর আবেদন করেও কোনো ফলাফল এখনো পাইনি।
বিভিন্ন বাস সার্ভিস কোম্পানির কর্মকর্তারা রাতে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা সম্পূর্ণ অন্যায় স্বীকার করে বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে। কয়েকটি নামিদামি কোম্পানির কর্মকর্তারা আরও জানান, আমাদের দামি বাসগুলোও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় রাখতে হচ্ছে। ফলে মাদকসেবীরা বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। তারাও চান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন একটি নির্দিষ্ট স্থান করে দেন। জানা যায়, এসব বাস কোম্পানি রাস্তায় বাস পার্কিংয়ের জন্য প্রশাসনকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে থাকে। চুরি-ছিনতাই রোধ, রাতে যাত্রীদের চলাচলে নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাস্তা থেকে এসব অনুমোদনবিহীন টার্মিনাল অপসারণ করা হবে বলে প্রিয় ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা।
Source: Daily Samakal
রূপবদলের ঢাকা

প্রতিনিয়ত বদলায় ঢাকার রঙ। সি্নগ্ধ ভোরের ঢাকা, যানজটে অচল মধ্যদুপুর, সন্ধ্যায় ক্লান্ত মানুষের ঘরে ফেরার উৎসব আর প্রহরীর হুশিয়ারি নিয়ে রাতের রঙিন ঢাকা। ঈদে ঘরমুখো মানুষের অন্যরকম এক চাঞ্চল্য ঢাকাকে করে বৈচিত্র্যময়। আকাশের রঙের মতোই ঢাকার মন বোঝা দায়। গ্রীষ্মের খরতাপে পথের মোড়ে মোড়ে আখের রস অথবা কোমল পানীয়ের দোকানে ভিড়। এক বর্ষা থেকে আরেক বর্ষায় রাস্তার কাদামাখা হাঁটুপানিতে পথশিশুদের উৎসব, সুযোগসন্ধানী রিকশা-সিএনজিওয়ালাদের দৌরাত্ম্য, শীতের সকালে অলিগলিতে ভাসমান ভাপা পিঠার দোকান, ঢাকার চিরচেনা গল্প। প্রায় বিশ মিলিয়ন লোকের এ জনপদে দিনের গল্পের প্রায় পুরোটাই ট্রাফিক জ্যাম, ব্যস্ত মানুষের ছোটাছুটি। কারও যেন কোনোদিকে তাকানোর অবকাশ নেই। সেই ভোরে, পাখির কলরব শুরু হওয়ার আগেই অভিজাত আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা ছোটেন প্রাতঃভ্রমণে। দলে দলে মানুষ ঘর থেকে বেরোয় কাজের সন্ধানে। চোখে পড়ে সেলাই দিদিমণিদের দীর্ঘ পথচলা। সূর্য যখন মাথার উপর স্থির হয়, ঢাকাও তখন স্থির হয়ে যায় জ্যামের কল্যাণে।
অফিস শুরু ও ছুটির সময়টায় বাস, সিএনজি, রিকশা এক কথায় তীব্র যান সংকট। লোকাল বাসগুলো তখন সিটিং সার্ভিসে রূপ নেয়। ফার্মগেট, মতিঝিল, গুলিস্তান, গুলশান-১ ও ২সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় বাস কাউন্টারের সামনে টিকিট হাতে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন শুধু ঢাকাতেই চোখে পড়ে।
রাতের রঙিন ঢাকা, ঢাকার অন্য এক রূপ। চৌরাস্তার উঁচু ল্যাম্পপোস্ট, শাহবাগ, টিএসসির মোড়, কবি আর কবিতায় মুখরিত আড্ডা, কারওয়ান বাজারে ভ্যান কিংবা বাঁশের টুকরির মধ্যে বড় ক্লান্ত মানুষের সুখনিদ্রা; কমলাপুর, তেজগাঁও, টঙ্গী রেলস্টেশনে ভাসমান মানুষের ভিড় আর অভিজাত হোটেল, মোটেল, ক্লাব, পার্টি হাউসে জমকালো ফ্যাশন শো, ডিজে পার্টি, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা ফুটপাতের স্টিলের ওভারব্রিজে নিশিকন্যাদের করুণ বাস্তবতা, ভাঙা মন নিয়ে ওয়াসা, ডিপিডিসি, ডিসিসির শ্রমিকদের রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সর্বাধুনিক ব্যাংকিং এটিএম বুথের পাশে ঢুলুঢুলু চোখে জীর্ণ প্রহরী, আইকা গাম-মই নিয়ে একদল শিশুর দেয়াললিখন আর পোস্টারে নগর ছেয়ে ফেলার শপথ, এর ফাঁকে ফাঁকে নেশার আড্ডা, থানার সেল কিংবা অজ্ঞাত কোনো স্থান থেকে ভেসে আসা বুলেটের শব্দে অবুঝ শিশুর ঘুম ভেঙে যায়। কিছুতেই শিশুটির কান্না থামে না। সারারাত তাকে বুকে নিয়ে অজানা আতঙ্কে মায়ের নির্ঘুম রাত, ভোরের অনন্ত অপেক্ষা। অপেক্ষা রেকর্ডিং স্টুডিও ক্রুর কখন ভোর হবে, ওঁৎ পেতে থাকা কোনো অশুভ চক্রের অপেক্ষা, মানুষ বড় চালাক হয়ে গেছে_ পকেটে দামি মোবাইলও রাখে না, খরচের টাকা ছাড়া কোনো টাকাও থাকে না।
রোববার ও বৃহস্পতিবারের ঢাকা সত্যিকার অর্থেই একটু আলাদা। ঢাকার আশপাশে যাদের বাড়ি, সপ্তাহজুড়েই তাদের অপেক্ষা এ সময়ে ছুটে যাবেন নাড়ির টানে। প্রিয়জনের মুখ এক পলকের জন্য দেখতে অস্থির হয়ে ওঠে কর্মব্যস্ত মানুষ। কোনো সন্দেহ নেই বৃহস্পতিবারের শেষ বেলাটুকু যেন শেষ হতে চায় না তাদের। অফিস শেষে ছুটে যান কাছের কোনো মার্কেটে। কেনাকাটার সময় দোকানির সার্ভিসকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতির অলস সার্ভিস বলে তাদের মনে হয়। অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন যানবাহনে চাপ পড়ে সবচেয়ে বেশি। একটু অন্য চোখে তাকালেই দেখা যায়, এদিন ঢাকায় ব্যস্ততা বেড়ে যায় অনেকাংশে। মানুষের টানটান উত্তেজনা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় প্রায়ই। একই চিত্র রোববারেও। পার্থক্য শুধু বৃহস্পতিবারের বিকেলের দৃশ্য রোববারের সকালে প্রভাব পড়ে। শুরু হয় আরও একটি সপ্তাহের সূর্যোদয়। শুক্রবারের ঢাকা প্রায় পুরোটাই ফাঁকা। এদিন রিকশা, সিএনজি, বাস মেলে অনায়াসেই। লাইনে ঘেমে গোসল করতে হয় না, সিএনজি-রিকশা যেখানেই বলি না কেন যেতে চায় এক কথায়ই, বাড়তি ভাড়া তো দূরে থাক ন্যায্য ভাড়া থেকে কিছু কমেও ওরা যেতে চায়। কিন্তু যাবটা কোথায়, অলস সময় কাটানোই যে আজ বড় কাজ! রিকশাওয়ালাদের শুক্রবার মানেই ঈদের দিন। কারণ ওইদিন মহাজনকে কোনো জমা দিতে হয় না। আক্ষেপের সুরে কেউ কেউ বলেন_ আহ, এমন যদি প্রতিদিনের ঢাকা হতো! বিকেলে ওয়ান্ডার ল্যান্ড, শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, লালবাগ কেল্লা, সংসদ ভবন, নন্দন কিংবা ফ্যান্টাসি কিংডমে মানুষের জোয়ার।
এছাড়াও রোজা এলেই বাড়তি কিছু রোজগারের আসায় দলে দলে মানুষ ঠাঁই নেয় প্রিয় ঢাকার বুকে। বিশ্ব ইজতেমায়, আন্তর্জাতিক কোনো ক্রিকেট অথবা আর্মি স্টেডিয়ামে ওপেন এয়ার কনসার্টে ঢাকার বাইরে থেকে ছুটে আসে লাখো মানুষ। এছাড়া বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য কাজে ঢাকায় আসা-যাওয়া করে এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। সবকিছুর পরও ঢাকার ক্রমাগত রূপবদল আমাদের মুগ্ধ
করে নিঃসন্দেহে।
Saturday, December 18, 2010
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট

জনবল
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে মোট শিক্ষক ৫০ জন। এদের মধ্যে ফুল টাইম ২৭ জন। পার্ট টাইম শিক্ষক ১৬ জন, ভিজিটর ৬ জন (বিদেশি) এবং একজন সুপার নিউমারারি এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মোট ২৪ জন। কর্মকর্তা ৫ জন ৩য় শ্রেণীর ৪ জন এবং ৪র্থ শ্রেণীর ১৫ জন কার্যরত আছেন, বলে, সিনিয়র সচিব আফিজ আব্দুর রহমান।
পড়ানোর পদ্ধতি
আধুনিক ভাষা ইনস্টিউিট এক বছর মেয়াদী জুনিয়র ও সিনিয়র সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা ও চার বছর মেয়াদি উচ্চতর ডিপ্লোমা করার সুযোগ রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের খুব যত্ন সহকারে ভাষা শেখানো হয়। তবে শেখানোর পদ্ধতি অন্যান্য বিভাগ থেকে আলাদা। এখানে প্রতিটি ভাষায় ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুপ তৈরি করা হয়। প্রতিটি গ্রুপে (নূন্যতম) ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকে। প্রতি বছর ৩টি শর্ট কোর্স করানো হয়। সংক্ষিপ্ত কোর্স এখানে ৫০-৬০ ঘণ্টা করানো হয়। এখানে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নন, বরং বাহিরের শিক্ষার্থীরাও যে কোনো ভাষায় সংক্ষিপ্ত কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তবে ইংরেজি কোর্স শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়াও রয়েছে ইংরেজি সংক্ষিপ্ত কোর্স (৫০-৬০) ঘণ্টা। এতে যে কোনো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারেন।
সময় ও খরচ
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ এক বছর অথবা নূন্যতম ১২০ ঘণ্টা। তবে এখানে টানা চার বছর না পড়েও উচ্চতর ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব। ইনস্টিটিউটে প্রতিটি কোর্সের ফি হাজার ৩০০ টাকা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের শিক্ষার্থী যারা তাদের রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৩৩ টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এখানে ভর্তি হতে পারবেন। এজন্য ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ বিদেশি শিক্ষার্থীদের খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শিক্ষা উপকরণ বাবদ দিতে হবে আরও দুই হাজার টাকা।
যোগ্যতা
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তা নয়, এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পাস যে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন।
আবেদনপত্র সংগ্রহ
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে একই সঙ্গে একাধিক ভাষায় ভর্তি হতে পারবেন না। টিএসসিতে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদনপত্রের সাথে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার মার্কশিটের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কশিটের প্রয়োজন হবে না। তবে আবেদনপত্রে নিজ নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
Friday, December 10, 2010
হারিয়ে যাচ্ছে নগরীর সৌন্দর্য!


ঢাকার ঐতিহ্য চার শ' বছরের। সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই নগরীর সৌন্দর্যের একটা আলাদা রূপ আছে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন আমাদের প্রিয় নগরী ঢাকার সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন সড়কের মাঝে গাছ লাগালেও অনেক স্থানেই সঠিক পরিচর্যার অভাবে সেগুলো মরে যাচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন সড়কের মাঝে বিউটিফিকেশনের কাজে ব্যবহূত রেলিং বা কাঁটাতারের বেড়াগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও আবার চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রাস্তার মাঝে আইল্যান্ডগুলো কাজ সঠিকভাবে করা হয় না বলে অভিয়োগ রয়েছে। কয়েকদিন আগে সম্পন্ন হওয়া মিরপুর থানার সামনে থেকে বিসিক বিল্ডিং পর্যন্ত আইল্যান্ডের কাজের মান অনেক খারাপ। সেখানকার শতকরা ৯০ ভাগ কাজেই সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য অনেক স্থানে এসব কাজের জন্য শুধু সুরকি, বালু ও ইট বিছিয়ে কোনো রকমে কাজ হয়। আবার উত্তরার মাসকট পস্নাজার সামনের আইল্যান্ডের কাজের মানও খারাপ বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ডিসিসি'র সংশিস্নষ্ট দপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কাজের মান ঠিক আছে। আমরা চেষ্টা করেছি সঠিকভাবে কাজ করতে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, এতিহ্যবাহী ঢাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে তারা দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক বদ্বীপ নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে জিপিও মোড়, পল্টন মোড়, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্টের সামনে ফোয়ারা, কারওয়ান বাজার মোড়ে ফোয়ারা, পান্থ কুঞ্জ, সাতরাস্তা মোড়ে ময়ূর, শেরাটনের সামনে রাজসিক, এয়ারপোর্ট রোডে বিভিন্ন নান্দনিক সড়ক বদ্বীপসহ নির্মাণ করেছে। নগরীতে দিন দিন পার্ক ও খেলার মাঠ সংকুচিত হচ্ছে। সুন্দর নগরায়নে নগরীবাসীর মানসিক বিনোদনের জন্য অনেক বেশি পার্ক ও খেলার মাঠ প্রয়োজন। সেই কথা চিন্তা করেই ডিসিসি নগরীতে ৪২টি পার্ক সম্প্রসারণ করেছে, যেগুলো নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত। এর মধ্যে বনানীতে রয়েছে পাঁচটি পার্ক। এর মধ্যে বনানী লেক পার্ক ছাড়াও ডি, সি, জি ও এফ বস্নকে রয়েছে শিশুপার্ক। বারিধারায় রয়েছে দুইটি পার্ক। গুলশানে রয়েছে চারটি পার্ক। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে একটি পার্ক। বাহাদুর শাহ পার্ক। সায়েদাবাদ শিশু পার্ক। স্বামীবাগ শিশু পার্ক। গুলিস্তান শিশু পার্ক। সিরাজুদৌলস্না পার্ক। জগন্নাথ শাহ রোড পার্ক। হাজারীবাগ পার্ক। নওয়াবগঞ্জ পার্ক। শ্যামলীতে রয়েছে দুইটি পার্ক। এরমধ্যে একটি শ্যামলী পার্ক ও আরেকটি শ্যামলী শিশু পার্ক। শহীদ শাকিল পার্ক। শিয়া মসজিদ পার্ক। মোহাম্মদপুর ইকবাল রোড পার্ক। কারওয়ান বাজার পার্ক। ফার্মগেট পার্ক। পান্থকুঞ্জ পার্ক। কলাবাগান লেক সার্কাস পার্ক। মাজেদ সরদার পার্ক। মতিঝিল পার্ক। বংশাল পার্ক। পলস্নবী শিশু পার্ক। উদ্ভিদ উদ্যান। নারিন্দা শিশু পার্ক। খিলগাঁও শিশু পার্ক। আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার শিশু পার্ক। গুলশান ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক, ওসমানী উদ্যান প্রভৃতি। সেই সাথে ধানমণ্ডি লেক উন্নয়ন প্রকল্পটি করপোরেশনের একটি জনপ্রিয় প্রকল্প। নগরীর সাধারণ মানুষের মানসিক প্রশান্তির জন্য ধানমন্ডি লেক উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়েছে। ধানমণ্ডি লেকটি ৮৫.৬০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৩১ একর স্থলভাগ আর বাকিটা জলরাশি। এই পাকটি নগরবাসীর কাছে একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে মনে স্থান করে নিয়েছে। সিটি করপোরেশনের বিউটিফিকেশনের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, 'বাড়ির সামনে সবাই সুন্দর রাখে। কিন্তু পেছনের দিক সুন্দর রাখে না। তেমনি ডিসিসি'র সামনের দিকটা অর্থাৎ শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, উত্তরা রেলগেট পর্যন্ত অনেক সুন্দর করে সাজানো। সেই সাথে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে সড়ক বদ্বীপ। আর পেছনের দিক বা সায়েদাবাদ, ফ্লাইওভার হয়ে প্রগতি সরণি, মিরপুর গাবতলী এলাকাগুলো সে রকম সুন্দর নয়। এ সব স্থানগুলোতে জাতীয় দিবস এবং আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের সময় সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। আগামী ১৬ ডিসেম্বর নগরীজুড়ে সুন্দর করে সাজানো হবে। ১৫ ডিসেম্বররের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। সেই সাথে বিভিন্ন সড়কের গাছের টব ও বস্নকগুলো রঙ করা হবে।' ওই কর্মকর্তা আরো জানান, 'বর্তমানে বিভিন্ন সড়কের গাছগুলোতে পানি দেয়া হয় না। কারণ বর্ষার সময় এমনিতেই বৃষ্টির পানি পায় গাছগুলো। গ্রীষ্ম মৌসুমে গাছে পানি দেয়ার জন্য সাতটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়। তবে ডিসিসি'র গাছে পানি দেয়ার জন্য পানি পেতেও অসুবিধা হয়। কেননা ধানমন্ডি লেক থেকে পানি নেয়া যায় না। পানির জন্য ওয়াসার কাছে ধন্না দিতে হয়। তাদের কাছে পানি চাইলেও তারা বলে জনগণকে পানি দিতে পারি না, গাছে পানি দেয়ার জন্য পানি কোথা থেকে দিব?' ডিসিসি'র আরেকটি সূত্র জানায়, প্রতি বছর তারা বিউটিফিকেশনের জন্য এক কোটি টাকা ব্যয় করেন এই প্রকল্পে। নগর ভবনসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাজানো ও আলোকসজ্জা করে থাকে জাতীয় ও বিশেষ দিবসগুলোতে। নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ও সিটি ব্যাংক উলেস্নখযোগ্য।
ছবি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
Wednesday, December 8, 2010
জরুরি ফোন (থানা)
Monday, December 6, 2010
বিপণিবিতানের সময়সূচি
ঢাকাকে সাতটি অঞ্চলে ভাগ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট ও বিপণিবিতান এলাকাভিত্তিক আলাদা আলাদা দিনে সপ্তাহে এক দিন পূর্ণদিবস ও আরেক দিন অর্ধদিবস (বেলা ২টা পর্যন্ত) বন্ধ। খোলা থাকবে রাত ৮টা পর্যন্ত।
অঞ্চল-১
শুক্রবার পূর্ণ এবং শনিবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : বাংলাবাজার বইয়ের মার্কেট, ফরাশগঞ্জ কাঠের আড়ত, শ্যামবাজার কাঁচামালের পাইকারি বাজার, বুড়িগঙ্গা সেতু মার্কেট, আলম সুপার মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধুপখোলা মাঠ বাজার, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, কাপ্তানবাজার, ঠাটারীবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, চকবাজার, মৌলভীবাজার, ইমামগঞ্জ মার্কেট, বাবুবাজার, নয়াবাজার, ইসলামপুর কাপড়ের বাজার, পাটুয়াটুলী ইলেকট্রনিঙ্ ও অপটিক্যাল মার্কেট, নয়ামাটি এঙ্সেরিজ মার্কেট, শরিফ ম্যানশন, ছোট ও বড় কাটরা পাইকারি মার্কেট, বেগমবাজার, তাঁতীবাজার, নবাবপুর রোড ও নর্থ সাউথ রোডের দোকানপাট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট এবং সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট।
অঞ্চল-২
রবিবার পূর্ণ এবং সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, মেরাদিয়া বাজার, আয়েশা মোশাররফ শপিং, দনিয়া তেজারত মার্কেট, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার এবং মিতালী সুপার মার্কেট।
অঞ্চল-৩
বৃহস্পতিবার পূর্ণ এবং শুক্রবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : সেঞ্চুরি আর্কেড, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, বিশাল সেন্টার, আয়েশা শপিং কমপ্লেঙ্, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, পলওয়েল সুপার মার্কেট, সিটি হার্ট, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, স্টেডিয়াম মার্কেট-১ ও ২, গুলিস্তান কমপ্লেঙ্, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়েমেনি মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট।
অঞ্চল-৪
মঙ্গলবার পূর্ণ এবং বুধবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : হাতিরপুল বাজার, মোতালিব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, গ্রিন সুপার মার্কেট, ফার্মভিউ সুপার মার্কেট, সৌদিয়া সুপার মার্কেট, সেজান পয়েন্ট, লায়ন শপিং সেন্টার, নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক, নূর ম্যানশন, বাকুশাহ মার্কেট, ইসলামিয়া মার্কেট, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, ইস্টার্ন মলি্লকা, গ্লোব শপিং, বদরুদ্দোজা মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আযম মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, রাইফেল স্কয়ার, এআরএ শপিং সেন্টার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমণ্ডি প্লাজা, মমতাজ প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্লাজা এআর, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, অর্কিড প্লাজা, কেয়ারি প্লাজা, আনাম র্যাংগস প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট, কাব্যকস সুপার মার্কেট, কিচেন মার্কেট, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট এবং সাকুরা মার্কেট।
অঞ্চল-৫
বৃহস্পতিবার পূর্ণ এবং শুক্রবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মাজার কো-অপারেটিভ মার্কেট, শাহ আলী সুপার মার্কেট, মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেঙ্ এবং মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট।
অঞ্চল-৬
রবিবার পূর্ণ এবং সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : বিসিএস কম্পিউটার মার্কেট, পল্লবী শপিং মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, পল্লবী সুপার মার্কেট, পূরবী সুপার মার্কেট, নিউ সোসাইটি মার্কেট, সুইডেন প্লাজা, পর্বতা টাওয়ার, তামান্না কমপ্লেঙ্, ছায়ানীড় সুপার মার্কেট, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইব্রাহিমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেঙ্, রহমান মার্কেট, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ ও ২, নাভানা টাওয়ার, আলম সুপার মার্কেট এবং কলোনি বাজার মার্কেট।
অঞ্চল-৭
বুধবার পূর্ণদিবস এবং বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস বন্ধ
বিপণিবিতানগুলো হচ্ছে : লুৎফন শপিং টাওয়ার, হাকিম টাওয়ার, হল্যান্ড সেন্টার, নূরুন্নবী সুপার মার্কেট, সুবাস্তু নজর ভ্যালি, যমুনা ফিউচার পার্ক, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেঙ্, রাজউক সেন্টার, একতা প্লাজা, মান্নান প্লাজা, বন্ধন প্লাজা, কুশল সেন্টার, এবি সুপার মার্কেট, আমীর কমপ্লেঙ্, মাসকাট প্লাজা, এসআর টাওয়ার, পুলিশ কো-অপারেটিভ ও রাজউক কসমো।
স্বপন কুমার দাসযাঁরা বহু বছর ধরে বংশপরম্পরায় পুরান ঢাকায় বসবাস করে আসছেন তাঁদের ঢাকার আদি অধিবাসী বলা হয়। তাঁদের আচার-ব্যবহার ও ভাষারীতিও আর দশটা সাধারণ নাগরিকের চেয়ে আলাদা। তবে তাঁরা অধিকাংশেরই ধর্ম ইসলাম। তাঁরা দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। একটা শ্রেণী ছিল তুলনামূলকভাবে শিক্ষিত। অপর শ্রেণীটি শিক্ষায় অনগ্রসর। নানা সংস্কারে আবদ্ধ। তাঁদের বলা হতো কুট্টি। তাঁরা উর্দু ও হিন্দির মিশ্রণে কথা বলতেন। আবার বাংলা ভাষায় ছিল বেশ পটু। রঙ্গরস মিশিয়ে কথা বলা ছিল তাঁদের সহজাত অভ্যাস। এ গুণের কারণেই তাঁরা সব মহলে আলোচিত।
একসময় ঢাকার আদি অধিবাসীর জীবন ছিল বৈচিত্র্যহীন আর একঘেয়েমিতে ভরা। ধর্মীয় ও বৈবাহিক অনুষ্ঠানাদি ছাড়া তাঁদের জীবনে তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল না। তাঁরা কেউ ছিল সাধারণ দোকানদার, কেউ রিকশাচালক বা ঘোড়াগাড়ির চালক। অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে তাঁদের মন ছিল প্রাণরসে ভরপুর। মজার মজার কাহিনী বলাটা তাঁদের জন্মগত অভ্যাস। এ সহজাত রসবোধের কারণে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হতো। শত সমস্যায় জর্জরিত জীবনে হাসির ফল্গুধারা বয়ে যেত।
ঢাকার আদি অধিবাসীর এ রঙ্গরসের উদ্দেশ্য ছিল নিজে আনন্দ পাওয়া ও অন্যকে আনন্দ দেওয়া। অনেক সময় যাঁকে নিয়ে রসিকতা করা হতো, তিনিও আনন্দ পেতেন। ঢাকার আদি বাসিন্দাদের এ রসিকতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ছিল গতানুগতিক রসিকতা, যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অপরটি হচ্ছে, সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক রসিকতা। গতানুগতিক রসিকতার মধ্যে ছিল হোটেলে চায়ের কাপে মাছি পড়ার কথা। হোটেল মালিককে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে মালিক উত্তর দিতেন, 'তিন পয়সার চায়ে মাক্ষি পড়ব না তো কি আত্তি (হাতি) পড়ব!' বর্ষাকালে বাড়ির ছাদ দিয়ে পানি পড়লে ভাড়াটিয়া তা মালিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাড়ির মালিক উত্তর দিতেন, 'মাসিক তিন টাকা ভাড়ার বাড়ির ছাদ দিয়া পানি পড়ব না তো কি শরবত পড়ব!' এ রকম বহু রসিকতা আছে, যা ছিল গতানুগতিক রসিকতা।
গতানুগতিক রসিকতার বাইরে ঢাকার আদি অধিবাসীর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাৎক্ষণিক রসিকতা। যেকোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বাকচাতুর্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা ছিল তাঁদের সহজাত গুণ। উত্তর যেন তাঁদের ঠোঁটের কোণে লেগেই থাকত। শুধু ঘটনা ঘটার অপেক্ষা। যেমন_এক বৃদ্ধ মাছ কেনার জন্য মাছের বাজার ঘুরছে। হঠাৎ বৃদ্ধ পিছলে পড়ে গেলে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। তা দেখে বৃদ্ধ উঠে দাঁড়িয়ে মাটিতে সজোরে লাথি মেরে নিজে নিজেই বলতে থাকেন, 'যখন জুয়ান আছিলাম তখন মাটিতে ফালাইতে পারো নাই। অখন বুড়া অইছি, ফালাইবাই তো।' বৃদ্ধের এমন বুদ্ধিদীপ্ত কথা শুনে আবার সবাই হেসে ওঠে। ঢাকার আদি বাসিন্দাদের রসবোধের আরেকটি উদাহরণ_রিকশার চেন বারবার পড়ে যাচ্ছে তাই রিকশারোহী বিরক্ত হচ্ছেন। যাত্রীর এ বিরক্ত দূর করার জন্য রিকশাচালক চেন ওঠানোর সময় নিজে নিজেই বলতে থাকে_'বউ পুরান অইয়া গেলে যেমন মাথা থাইকা ঘুমটা পইড়া যায়, চেইনটাও বউয়ের মতো পুরান হইয়া গেছে, এর লেইগা বারবার পইড়া যাইতাছে। মহাজনেরে কইয়া আইজই চেইনটা বদলাইয়া লমু।'
শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ হালকা করার ব্যাপারেও ঢাকার আদি অধিবাসীর জুড়ি নেই। যেমন_এক ব্যক্তি মারা যাওয়ায় তাঁকে কবরস্থানে আম গাছের তলে দাফন করে আসা হয়। মৃতের পরিবারের সবাই এখন শোকে নিমজ্জিত। এ পরিবেশ হালকা করার জন্য মৃতের ছেলের এক বন্ধু বলে ওঠে, 'আবে হালা তোর বাবারে আম গাছের তলায় কবর দিছস ক্যান। রোদে তো কষ্ট পাইব, বটগাছের তলায় কবর দিলে ছায়া বি পাইত। খুশি বি থাকত।' এমন কথায় পরিবেশ নিমিষে হালকা হয়ে যায়।
ঢাকার আদি অধিবাসী কথার মাধুর্য বাড়ানোর জন্য প্রায়ই হালা (শালা) শব্দটি ব্যবহার করে। এমনকি বাবা হালা, মা হালা, পোলা হালাও বলে। যেমন_গৃহশিক্ষক পড়াতে না আশায় এক ছাত্রী তার প্রতিবেশী বান্ধবীকে জানালা দিয়ে বলে, 'সার হালা মনে অইতাছে আইজকা পড়াইতে আইব না। চল লালবাগ কিল্লা দেইখা আহি।'
ঢাকার আদি অধিবাসীর এ রসবোধ সার্থকভাবে ব্যবহার করেছেন প্রয়াত সাহিত্যিক এম আর আখতার মুকুল। তিনি '৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার আদিবাসীদের বাচনভঙ্গি ও রসবোধের ধারায় চরমপত্র পাঠ করে একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা প্রত্যাশীদের আলোড়িত ও উৎসাহিত করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত চরমপত্র অনুষ্ঠানটি ছিল তখন সবচেয়ে জনপ্রিয়।
ঢাকার আদি অধিবাসীর এ রসবোধটা অতুলনীয়। বিশ্বের নানা দেশে অঞ্চলবিশেষের আদি অধিবাসীর মধ্যে এ বৈশিষ্ট্য বিরল। সেদিক থেকেও তাঁরা এক গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী। তবে সে বৈশিষ্ট্যে আজ ভাটা পড়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁরা অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন, শিক্ষা-দীক্ষায়ও এগিয়েছেন। কিন্তু গর্বের সেই রসবোধটা আজ লাখো মানুষের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।
বৃষ্টির পানি সংগ্রহে হবে ওয়াটার প্রিজারভেশন সেন্টার
আমি ২০০৪ সাল থেকে এ প্রকল্পের পরিকল্পনার কাজ শুরু করি। দীর্ঘদিনের সে পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে। রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ কমানো; যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশদূষণ বন্ধের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন স্থান হিসেবে হাতিরঝিলকে তুলে ধরাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে এ কথা ঠিক, তার পরও এর বেশির ভাগ কাজ এখন শেষ। এর সঙ্গে যুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরলস প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
এখানে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কোর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা ওয়াসা। আমাদের এ প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে আশপাশের এলাকা থেকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য একটি ওয়াটার প্রিজারভেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে। এটি সংশ্লিষ্ট এলাকার জলাবদ্ধতা রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। এতে শহরের পরিবেশদূষণও বন্ধ হবে।
আমরা চেষ্টা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার, তবে অতিরিক্ত কিছু সময়ও লাগতে পারে। এ প্রকল্পের কিছু অংশ নিয়ে কয়েকটি মামলা ছিল। তার বেশির ভাগই ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। যে কয়টি আছে তা মাস কয়েকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও আমাদের কাজ পুরোদমে চলছে। ঈদের বন্ধে আমরা পুরোদমে কাজ করেছি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজও প্রায় শেষের দিকে। তবে বিজিএমইএ ভবন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমার ধারণা, বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর কথা চিন্তা করে বিকল্প জায়গায় তাদের ভবনটি সরিয়ে নেবে। তবে সরকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জানায়নি। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে আমাদের নাগরিক জীবনে বেশ বড় একটা পরিবর্তন আসবে।
Wednesday, December 1, 2010
পুরাতন কাপড়ের হাট
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বইয়ের হাট
জাদুঘর, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও বিনোদনকেন্দ্রের সময়সূচি ও ফোন নম্বর

প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৯১ প্রকৃতি, অবস্থান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ডাকসু ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লক্ষ্য, উদ্দেশ্য : বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে অবহিত করা।
সময়সূচি : সপ্তাহের প্রতিদিন খোলা যোগাযোগের ঠিকানা : ডাকসু সংগ্রহশালা, ডাকসু ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আহসান মঞ্জিল জাদুঘর প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৯২ প্রকৃতি, অবস্থান : আহসানুলস্নাহ রোড, নওয়াব বাড়ি, ঢাকা।
লক্ষ্য, উদ্দেশ্য : ঢাকার নবাবদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও তাদের অবদান দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরা। গ্যালারি : ৩১টি কক্ষে ২৩টি প্রদর্শনী সময় সূচি : শনি-বুধবার, সকাল ৯টা-বিকাল ৫টা (অক্টোবর-মার্চ)। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত (এপ্রিল-স্বেম্বের)।
সাপ্তাহিক বন্ধ : বৃহস্পতিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন সমূহ।
প্রবেশ মূল্য : দুই টাকা।
যোগাযোগ ঠিকানা : পরিচালক, আহসান মঞ্জিল জাদুঘর, নওয়াব বাড়ি, ঢাকা-১০০০, ফোন : ৭৩৯১১২২, ৭৩৯৩৮৬৬।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৯৪ প্রকৃতি, অবস্থান : বেসরকারি, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।
লক্ষ্য, উদ্দেশ্য : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক ও বাঙালি জাতির ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। গ্যালারি : নীচ তলায় দু'টি কক্ষ যেখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য সংগ্রামী জীবনের সচিত্র প্রদর্শনী, দ্বিতীয় তলায় তিনটি কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহূত জিনিসপত্র ও পারিবারিক জীবনের সচিত্র প্রদর্শন।
সময়সূচি : বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার-সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা।
সাপ্তাহিক বন্ধ : বুধবার প্রবেশ মূল্য : দুই টাকা যোগাযোগ ঠিকানা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু ভবন, বাড়ি ১০, সড়ক-১২, (পুরাতন ৩২), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯, ফোন : ৮১১০০৪৬।
প্রয়োজনীয়তা
বিদু্যৎ বিভ্রাট এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গি। প্রতিনিয়ত বিদু্যতের অঘটন-ঘটন যেনো ঘটা করেই আমাদের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। শেষ ভরসা আইপএস দিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কারণ আইপিএস চার্জ হতে যতটুকু সময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদু্যৎ সরবরাহ প্রয়োজন তার সিকি ফোটাও মেলে না। কিন্তু বিদু্যৎচ্ছিন্ন হয়ে যাবার আগেই যদি টের পাওয়া যায় ঠিক কখন কখন বিদু্যৎ বন সরবরাহ বন থাকবে তাহলে অন্তত কিছু কাজ গুছিয়ে রাখা সম্ভব হবে। এখানে দেয়া হলো এমন কিছু প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর:
হেড অফিস: ডেসকো বাড়ি ৩, সড়ক ২৪, বস্নক কে, বনানী মডেল টাউন, বনানী, ঢাকা ১২১৩। ফোন: ৮৮৫৯৬৪২, ৮৮৬০৩৪১।
হিএ, (এম এন্ড ডি অপারেশন) ফোন: ৮৮৫৫২৪৪, ৯৮৯৫১১৭
কল্যাণপুর ডিভিশন ফোন: ৯০১৪৮৪৬, ৯০০৭৭০৯
কাফরুল ডিডিশন ফোন: ৮০২১৩৪৪
পলস্নবী ডিভিশন ফোন: ৮০৫২০১৬, ৯০০২০২৬
গুলশান ডিভিশন ফোন: ৮৮৫৯৪৯৩, অভিযোগ:৯৮৯৫০৪৫
বারিধারা ডিভিশন ফোন: ৮৮৫৫২৪৪, অভিযোগ: ৯৮৯৫১১৭
উত্তরা ডিভিশন ফোন: ৮৯৫৯১৪৫, অভিযোগ: ৮৯১৯৫৭৪
দক্ষিণখান ডিভিশন ফোন: ৮৯১১২৮৯
অভিযোগ: ৮৯১২৩৯৮
টঙ্গী (পূর্ব) ডিভিশন ফোন: ৮৯০০১৬৩,
অভিযোগ: ৯৮০১২৪৪
টঙ্গী (পশ্চিম) ডিভিশন ফোন: ৯৮০২৭১০,
অভিযোগ: ৯৮০১০৮০
বলধা গার্ডেন
মেহেদী হাসান
বলধা গার্ডেনে 'সাইকি' ও 'সিবিলি' নামে দুটি অংশ রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ বৃক্ষ, বিরুৎ আর গুল্ম নিয়ে সাজানো হয়েছে সাইকি ও সিবিলি অংশ। সাইকি আর সিবিলি শব্দ দুটি গ্রিক ভাষা থেকে নেয়া। সিবিলি অর্থ 'প্রকৃতি', যেখানে সবুজের রূপ আর মহিমা থাকে। সাইকি মানে 'আত্মা'। সব মিলিয়ে দাঁড়ায় 'প্রকৃতির আত্মা'। বলধা গার্ডেন যেন রাজধানী ঢাকার বুকে প্রকৃতির আত্মারই প্রতিচ্ছবি। জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৪৩ সালের ১৩ আগস্ট তাঁর মুতু্যর আগেই পূর্ণতা পায় বলধা গার্ডেন।
১৯০৯ সালে ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ ৩.৩৮ একর জমির ওপর সাইকি অংশের কাজ শুরু হয়। ১৯৩৬ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন হয়। ১৯৩৮ সালে শুরু হয় বাগানের উত্তর অংশ সিবিলির কাজ। ১৯৪৩ সালে সেটিও শেষ হয়। আবার বাগানের কলেবর বৃদ্ধির জন্য ঢাকার বিখ্যাত ব্যবসায়ী লাল মোহনের কথাও জানা যায়, যিনি 'শঙ্খনিধি' নামে পরিচিত ছিলেন। জমিদারের কাছ থেকে 'শঙ্খনাদ' পুকুর ও সূর্যঘড়িসহ একটি অংশটি কিনে নেন। ওই অংশের খেজুর ও কাঠবাদামগাছটি এখনো বেঁচে আছে।
বলধার গার্ডেনে রয়েছে প্রায় ২৫,০০০ উদ্ভিদ। এতে উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা ৬৭২টি। বিভিন্ন অর্কিড, ক্যাকটাস, জলজ উদ্ভিদসহ বলধা গার্ডেনে যে গাছপালা আছে, তা শুধু এ দেশের জন্যই বিরল সম্পদ নয়, বরং বিশ্বের সব উদ্ভিদ বিশারদ ও গবেষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর প্রায় অর্ধশতাধিক দেশের মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষের সন্ধান মেলে এখানে।
আগে এখানে যে গোলাপের বাগান ছিল তাতে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ ছিল, যার অধিকাংশই এখন বিলুপ্ত। তবে পরিচর্যাকারীদের বরাত দিয়ে জানা যায় বর্তমানে এখানে আরো গাছ লাগানো হচ্ছে। বর্তমানে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন প্রজাতির কিছু উদ্ভিদ সংযোজন করা হয়েছে। বার্ডস অব প্যারাডাইস (অর্কিড জাতীয়), এলাচিফুল, সেঞ্চুরি প্ল্যান্ট, কদম, চালতা, আফ্রিকান টিউলিপ, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, ভূর্জপত্র ইত্যাদি গাছ তো আছেই এমনকি প্রাচীনকালে লেখার কাজে ব্যবহূত হতো এমন গাছও এখানে রয়েছে। আরো আছে আকর্ষণীয় আমাজান লিলি। বলধা গার্ডেনের অভ্যন্তরের পুকুরটি সাধারণত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাজান লিলির বাহারে প্রস্ফুটিত থাকে। বছরের বাকি ছয় মাস আমাজান লিলি না থাকলেও পুকুরের বাঁধানো ঘাঁটে বসে পাখিদের কল-কাকলিতে মন উদাস হয়ে যাবে যে কারো। একসময়কার আকর্ষণ সূর্যঘড়িটি বর্তমানে নষ্ট, তবে তা সংরক্ষিত আছে। বাগানের পূর্বদিকেই রয়েছে জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর সমাধি, প্রকৃতির নিপুণ শিল্পকে প্রত্যক্ষ করতে যিনি গড়ে তুলেছিলেন বলধা গার্ডেন।
বলধা গার্ডেনের সাইকি অংশটি সংরক্ষিত। পুরনো মুচকুন্দচাঁপা, ডেউয়া, নাগলিঙ্গম, কনকচাঁপা, স্বর্ণচাঁপা, তেঁতুল ইত্যাদি গাছে ঝুলে থাকতে দেখা যায় অসংখ্য বাদুড়। আগত দর্শনার্থীদের জন্য এরা বাড়তি উপভোগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বলধার সাইকি অংশে ৭০ বছর বয়সি শারদ মলি্লকা গাছটিতে এখনো সুগন্ধি সাদা পাপড়ির ফুল ফঁটতে দেখা যায়। জাপান থেকে আনা হয়েছিল ক্যামেলিয়াকে। তার বাহারি রূপ বলধাকে দিয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। বিভিন্ন রঙের ক্যামেলিয়া ফুটতে দেখা যায় বাগানে। সাদা, গোলাপি ও লাল রঙের ফুল সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ফুটে থাকে। লতাজবা, ক্যানাংগা, কনকসুধা, কণ্টকলতা, পেপিরাস, কর্ডিয়া, পারুল, পোর্টল্যান্ডিয়া, ওলিয়া তো আছেই। লতাজবারা আবার বেয়ে ওঠে অন্য গাছে, শিমগাছের মতো দোল খায় বাতাসে। চিরসবুজ দৃষ্টিনন্দন স্রাব-জাতীয় উদ্ভিদ অঞ্জন। নীল রঙের ছোট ফুল ফোটে অঞ্জনে। প্রায় ৬০ বছর বয়সি দুটি গাছ রয়েছে সিবলি অংশে। আমাদের দেশে লাল ফুলের অশোকগাছ দেখা যায়। তবে বলধায় স্থান করে আছে রাজ অশোক। কমলা রঙের ফুলে রাজ অশোকের গাছ ছেয়ে যায়। আবার স্বর্ণ অশোকও সোনালি ফুলে ভরে ওঠে। এ ছাড়া জাকুনিয়া, ধুপ, আক্রোকারপাস, রুপেলিজা, হিং, বার্মা শিমুল, ব্রুনসফেলিয়া, নাগলিঙ্গম ইত্যাদি গাছও রয়েছে এখানে। বাগানের অর্কিড হাউসে প্রায় ২০০ জাতের অর্কিড সংরক্ষণ করা আছে। বলধা গার্ডেনকে বৃক্ষ, জলাশয়, অর্কিড হাউস ও অন্যান্য উদ্ভিদ কর্ণার মিলে এক অপূর্ব উদ্যান বলা চলে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর কর্মের সহযোগিতায় ছিলেন আরেক প্রকৃতি প্রেমিক অমৃত আচার্য। বলধা গ্রামের জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী এসেছিলেন ঢাকার ওয়ারীতে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি কালচারাল হাউস। ধীরে ধীরে এটি ঘিরেই গড়ে ওঠে একটি উদ্যান। বলধার জমিদার উদ্যানটা গড়েছিলেন বলেই ওটা বলধা গার্ডেন নামে পরিচিতি পায়। ঢাকা মহানগরীতে বলধা গার্ডেন ছাড়া তেমন কোনো সার্থক উদ্যান এর আগে দেখা যায়নি। ১৯০৯ সালে এটি গার্ডেন হিসেবে তৈরি হয়। বহু প্রজাতির উদ্ভিদের সমাহার গার্ডেনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
গাজীপুরের বলধা এস্টেটের মূল জমিদার ছিলেন খগেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী। তার কোনো সন্তান-সন্ততি ছিল না। তাই তাঁর সম্পত্তি বন্ধুর ছেলে নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীকে দিয়ে যান। জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ১৮৮০ সালে গাছার জমিদার মহিন চন্দ্রের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন ১৪ বছর, তখন নিঃসন্তান বলধার জমিদার তাঁকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে নরেন্দ্র নারায়ণই হন বলধার জমিদার।
বলধা গ্রাম এখন গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল বারিয়া ইউনিয়নের দড়ি বলধা মৌজায়। বলাধার জমিদার গ্রামের বাইরে দার্জিলিং, কলকাতা, লক্ষ্মৌ, পুরী ও ঢাকার ওয়ারীতে বাড়ি তৈরি করেন। তিনি ঢাকার ওয়ারীর বাড়িটির নাম দিয়েছিলেন কালচারাল হাউস; পরে সেটি পরিচিতি পায় বলধা হাউস নামে। কালচারাল হাউসের সাথে বলধা লাইব্রেরিও গড়ে তোলা হয়েছিল।
১৯২৫ সালে নারায়ণ চৌধুরী বলধা গার্ডেনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলধা জাদুঘর। সেটি ছিল তার পারিবারিক জাদুঘর। নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সংগীতরশিক, প্রকৃতি প্রেমিক ও দুর্লভ বস্তুর সংগ্রাহক। তিনি যেখানেই যেতেন, সেখান থেকেই কোনো-না-কোনো দুর্লভ বস্তু সংগ্রহ করতেন। তাই তাঁর ওই জাদুঘরটি ছিল মুদ্রা, ভাস্কর্যসহ প্রায় ৪০০০ নির্দশনের সংরক্ষণাগার। বর্তমানে তাঁর সেসব সংগ্রহ ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে। এ ছাড়া ১৯৪০ সালে জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর একমাত্র ছেলে নৃপেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী আততায়ীর হাতে নিহত হলে জমিদার গভীরভাবে শোকাহত হন। ছেলে হারানোর শোকে ১৯৪৩ সালের ১৩ আগস্ট তিনিও পরলোকগত হন। বাবা ও ছেলের স্মৃতিস্তম্ভ বলধা গার্ডেনের সিবলি অংশে সংগৃহীত রয়েছে।
১৯৪৩ সালে নরেন্দ্র নারায়ণের মৃতু্যর পরপর মস্নান হতে থাকে বলধার অপরূপ সৌন্দর্য। তবে ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পরও বাগানের অবয়ব প্রায় অবিকৃতই ছিল। বাগানটি সংরক্ষণ করার জন্য ১৯৫১ সালে কোর্ট অব ওয়ার্ডস এবং ১৯৬২ সালে বনবিভাগের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়।
এই যান্ত্রিক ঢাকা নগরীতে একটুকরো সবুজ ছায়াঘন প্রশান্ত পরিবেশ জাগিয়ে রাখতে বলধা গার্ডেনকে বাঁচিয়ে রাখা অতীব প্রয়োজন। মাটি ভরাট, সুষ্ঠু বর্জ্যব্যবস্থাপনা, নতুন অবকাঠামো তৈরি, নতুন নতুন চারা রোপণ, সযত্ন রক্ষণা-বেক্ষণ আর গণসচেতনতাই এ ঐতিহাসিক নিদর্শনটিকে স্বমহিমায় বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
নগর সভ্যতায় বিতাড়িত ফুল কচুরিপানা
হালকা বেগনি চ্যাপ্টা পাপড়ির চিরপরিচিত ফুলের উজ্জ্বল বেগনি আভাই তো হেমন্তের আগমনী সুর। এই ফুল চেনে না এমন বাঙালি কি আছে ! গ্রাম-বাংলা-শহর-নগরের এঁদো-ডোবায় জলজ উদ্ভিদ হিসেবে বিরক্তিকরভাবে এতো বেশি জন্মায় বলেই হয়তো চিরপরিচিত এ ফুলটির সৌন্দর্য ও গঠন বৈশিষ্ট্য আমরা অনেকেই গভীরভাবে খেয়াল করি না। কচুরিপানা ফুল হিসেবে আমরা যেটিকে দেখি, তা স্বাভাবিকভাবে ছয় পাপড়ি বিশিষ্ট পাঁচ-ছয়টি ফুল নিয়ে একটি গুচ্ছ ফুল। এবং ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে যে গুচ্ছের প্রতিটা ফুলের ছ'টির মধ্যে একটিমাত্র পাপড়ির বুকে নীলচে আল্পনার মাঝখানে একটি চৌকোনা হলদে টিপ। প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের অসাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এ ফুলটি আজ অনেককিছুর মতোই এই নগরী থেকে বিতাড়িত প্রায়।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্যামেরাটা কাঁধে নিয়ে কচুরিপানা ফুলের খোঁজে বেরিয়ে গেলাম। ঢাকা নগরীর আগ্রাসী ক্ষুধায় পুকুর ডোবা জলাশয় উধাও। শেষপর্যন্ত সম্ভাব্য স্পট হিসেবে বোটানিক্যাল গার্ডেনই বেছে নিলাম। বিশাল এলাকা তন্নতন্ন খুঁজে পরিত্যক্ত ডোবায় কচুরিপানা পেলেও এদের ফুলহীন বন্ধ্যা অস্তিত্ব জানিয়ে দিলো এ নগর সত্যিই প্রকৃতির স্বভাববিমুখ। অবশেষে গার্ডেনের শেষ প্রান্তে বিমান বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকার পাশ ঘেঁষে নির্জন পথ মাড়িয়ে আমিন বাজারগামী বেড়িবাধে উঠলাম ফেরার উদ্দেশ্যে। বিষণ্ন মনে রিক্সা বা টেম্পো কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে আনমনে হাঁটছি। হঠাৎ চমকে উঠলাম-ইউরেকা! ওই তো! ঝটকায় ক্যামেরাটা তুলেই ক্লিক ক্লিক। কিন্তুঃ। আবহই বলে দিচ্ছে আর কয়েকটা দিন পর এই শেষ চিহ্নটাও থাকবে না আরেকটা ক্লিক-বন্দী হবার অপেক্ষায়। নগরীর পাইথন-ক্ষুধা এই ছোট্ট ডোবা গিলে আরো বহুদূরগামী এখনঃ।
Monday, November 1, 2010
জরুরি ফোন নম্বর (তিতাস গ্যাস, ডেসকো, ডিপিডিসি ও ওয়াসা)
ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কম্পানি (ডেসকো)
অভিযোগ কেন্দ্রের নম্বর
পল্লবী : ৯০০১০৫১; কাফরুল : ৯০০১১১৯; কল্যাণপুর-আগারগাঁও : ৯১৪৪৭১৪; গুলশান : ৯৮৯৫০৪৫; বারিধারা : ৯৮৯৫১১৭; উত্তরা : ৮৯১৪২৬৫; দক্ষিণখান : ৮৯১২৩৯৮; টঙ্গী পূর্ব : ৯৮০১২৪৪, ৯৮১৫৯০৪; টঙ্গী পশ্চিম : ৯৮০১০৮০।
ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি (ডিপিডিসি)
গ্রাহকসেবা দপ্তর উত্তর এলাকা
সাতমসজিদ : ৯১১৯৮৯০; ধানমণ্ডি : ৯১৪৩২১০; শ্যামলী : ৯১৪৬০৪৩; জিগাতলা : ৯১৪৪১৩৮; পরীবাগ : ৮৬১৩৮২৭, ৮৬২১৭৯০; আজিমপুর : ৯৬৭৪৪৮২; লালবাগ : ৯৬৬১৯৭৯; কামরাঙ্গীরচর : ৯৬৭৭৬১১; তেজগাঁও : ৯৮৯১৮৮৭, ৯৮৬১৬৩৮; মগবাজার : ৯১১৯৬৫৮; শেরেবাংলা নগর : ৮১৫১২৪৭; কাকরাইল : ৯৩৩৫১৭৮; সেগুনবাগিচা : ৭১৭০২২৫; রাজারবাগ : ৯৩৫৩৭৭৭; খিলগাঁও : ৭২১২২৪৪; বাসাবো : ৭২১৮৪৯২।
দক্ষিণ এলাকা
কমলাপুর : ৯৩৫২২৫৬-৭; মানিকনগর : ৭৫৪৮৮৫৫; মুগদাপাড়া : ৭২৯০৮৮০; কাজলা : ৭৫৪৪৩৪৩; নারিন্দা : ৭১৬৪৯৮৮; বাংলাবাজার : ৯৫৬২৩৫০; স্বামীবাগ : ৭১৭৭০৫৫; বংশাল : ৭১৬৫৯২২; পোস্তগোলা : ৭৪১১৬২১; জুরাইন : ৭৪১১৯২৮; শ্যামপুর : ৭৫১১৪৫৫; ফতুল্লা : ৭৬৭০২৩৩; ডেমরা : ৭৬৯৪২০৯।
তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ
কম্পানি লিমিটেড
জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ : ৯৫৬৩৬৬৭-৮, প্রধান কার্যালয়, রেডিও রুম; ৮১১৯৩৭৯; উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) : ৯৫৬৩৬৭১, ০১১৯৯৮১৯১৭৪
ব্যবস্থাপক (জরুরি গ্যাস নিয়ন্ত্রণ) : ০১১৯৯৮০৯৩৩৯।
জোন-১ : টিকাটুলী
রাজস্ব : ৭১২৪০৭৪ (আবাসিক), ৭১২৪২২৯ (শিল্প/বাণিজ্য), বিক্রয় : ৭১২৪১৭৪ (আবাসিক, দ্রুত সেবা কার্যক্রম), ৭১২৪৬২৫ (শিল্প/বাণিজ্য)।
জোন-২ : মতিঝিল
রাজস্ব : ৯৫৬১২৬১ (আবাসিক), ৯৫৫৪৭৯২ (শিল্প/বাণিজ্য); বিক্রয় : ৯৫৬১২৯৩ (আবাসিক), ৭১৬০২৭৬ (শিল্প/বাণিজ্য); দ্রুত সেবা কার্যক্রম : ৯৫৫৬৮০৮।
জোন-৩ : লালমাটিয়া
রাজস্ব : ৯১১৭২১৫ (আবাসিক), ৯১৩২৪৯৮ (শিল্প/বাণিজ্য); বিক্রয় : ৯১১৩৯০৩ (আবাসিক, দ্রুত সেবা কার্যক্রম), ৯১৩২৩২৪ (শিল্প/বাণিজ্য)।
জোন-৪ : মধ্য বাড্ডা
রাজস্ব : ৮৮২১০৩৮ (আবাসিক), ৯৮৯৯১৭৭ (শিল্প/বাণিজ্য); বিক্রয় : ৮৮২৪৯৯৩ (আবাসিক, দ্রুত সেবা কার্যক্রম), ৯৮৮৮৯৪৭ (শিল্প/বাণিজ্য)।
জোন-৫ : মিরপুর
রাজস্ব : ৮০১৪১৩৩ (আবাসিক), ৯০১০৭৫১ (শিল্প/বাণিজ্য); বিক্রয় : ৮০১৪১৩২
(আবাসিক), ৯০০৭০০৪ (শিল্প/বাণিজ্য);
৮০২৩৪০১ (দ্রুত সেবা কার্যক্রম)।
জোন-৬ : মতিঝিল
রাজস্ব : ৯৫৬৩৬৬৯ (আবাসিক), ৭১৬৯৫২৪ (শিল্প/বাণিজ্য); বিক্রয় : ৭১৬৯৩৯৬ (আবাসিক), ৯৩৪৯৬৬৫ (শিল্প/বাণিজ্য); দ্রুত সেবা কার্যক্রম : ৯৫৫৬৮০৮।
জোন-৭ : জিনজিরা
রাজস্ব : ৭৭৭১৬৮৭ (আবাসিক, দ্রুত সেবা কার্যক্রম)।
ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন
কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)
প্রধান কার্যালয়
কন্ট্রোল রুম, ওয়াসা ভবন : ৮১১০৫৯৬।
সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বিভাগ : ৯৩৫৮১৯২ (অভিযোগ জানাতে ২৪ ঘণ্টা ফোন করা যাবে)।
জোন-১ : নবাবপুর রোডের পূর্ব দিক, উত্তরে বাসাবো থেকে দক্ষিণে গেণ্ডারিয়া, পূর্বে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মানিকনগর।
ঠিকানা : ফকিরাপুল স্টিল ট্যাংক কম্পাউন্ড, ফোন : ৯৩৫৬৯৫৭, ৯৩৫৮৩৯৭।
জোন-২ : নবাবপুর রোডের পশ্চিম দিক, হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ, উত্তরে নীলক্ষেত, আজিমপুর থেকে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত।
ঠিকানা : ওয়াটার ওয়ার্কস কম্পাউন্ড, চাঁদনীঘাট, ফোন : ৭৩১৮২৯৫, ৭৩১২৫৮৯।
জোন-৩ : দক্ষিণে নীলক্ষেত, পূর্বে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, উত্তরে আগারগাঁও রোড, শ্যামলী, পশ্চিমে বেড়িবাঁধ।
ঠিকানা : লালমাটিয়া স্টিল ট্যাংক কম্পাউন্ড, ৮১২০২০৫, ৮১২০১৯২।
জোন-৪ : দক্ষিণে আগারগাঁও, পূর্বে রোকেয়া সরণি ও পল্লবী প্রধান সড়ক, পশ্চিমে গাবতলী, উত্তরে বেড়িবাঁধ ও পল্লবী।
ঠিকানা : মিরপুর বাঙলা কলেজ, ফোন : ৯০০৩৮৪২, ৯০০০৫১৯।
জোন-৫ : দক্ষিণে কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, পূর্বে গুলশান, উত্তরে বনানী, পশ্চিমে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ ও বিমানবন্দর সড়ক।
ঠিকানা : মহাখালী টিবি হাসপাতাল গেট, ফোন : ৯৮৯৯৩৩৮, ৯৮৯৯৩৪০।
জোন-৬ : পূর্বে নন্দীপাড়া, দক্ষিণে স্টেডিয়াম, পশ্চিমে পরীবাগ, উত্তরে বাংলামোটর-মগবাজার-রামপুরা-বনশ্রী।
ঠিকানা : ফকিরাপুল স্টিল ট্যাংক কম্পাউন্ড, ফোন : ৮৩৫০২৪৫, ৯৩৫৮৬১৫।
জোন-৭ : ডিএনডি এলাকা,
ঠিকানা : ফকিরাপুল স্টিল ট্যাংক কম্পাউন্ড, ফোন : ৯৩৫৬৯৫৭, ৯৩৩২২৮৫।
জোন-৮ : পশ্চিমে বারিধারা, দক্ষিণে রামপুরা ব্রিজ, পূর্বে বাড্ডা, উত্তরে জোয়ার সাহারা, কুড়িল ও কুড়াতলী।
ঠিকানা : নতুনবাজার, বাড্ডা, ফোন : ৮৮৩৪২৩৯, ৮৮৩৩৭১৯।
জোন-৯ : উত্তরখান, দক্ষিণখান, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত ও উত্তরা মডেল টাউন।
ঠিকানা : মহাখালী টিবি গেট, ফোন : ৯৮৯৯৩৩৮, ৯৮৯৯৩৪০, ০১৮১৫৫৯৮২২৮, ০১৮১৯২০৮৯০২।
জোন-১০ : পশ্চিমে রোকেয়া সরণি ও পল্লবী প্রধান সড়ক, দক্ষিণে বিজয় সরণি, পূর্বে কচুক্ষেত, সেনানিবাস, উত্তরে মিরপুর সিরামিক।
ঠিকানা : মিরপুর বাঙলা কলেজ, ফোন : ৯০০৫৯৪৮, ৯০০৫৯৩৮।
Sunday, October 31, 2010
নগরীর গ্রন্থাগার
জ্ঞানপিপাসুদের সঠিক স্থান
সুফিয়া কামাল জাতীয় গ্রন্থাগার
রাজধানীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থাগার হলো সুফিয়া কামাল জাতীয় গ্রন্থাগার। ১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এ গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হয়। সবার জন্য উন্মুক্ত এ গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার। এখানে অধিকসংখ্যক পাঠকের সমাবেশ ঘটে। এই গ্রন্থাগারে প্রতিদিন প্রায় ২৫টি জাতীয় দৈনিক পড়া যায়। সেইসাথে নিয়মিত ২৫টি বিদেশি ম্যাগাজিনও থাকে। এই গ্রন্থাগারের আসন সংখ্যা ৪শ। প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার পাঠকের সমাগম ঘটে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ১০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, শাহবাগে এই গ্রন্থাগারের অবস্থান। ফোন : ৮৬২৬০০১।
বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৭২ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ৫ লাখের ওপর সংগ্রহ আছে এ গ্রন্থাগারে। আসন সংখ্যা ১৫০ হলেও প্রতিদিন ৫ শতাধিক পাঠকের আগমণ ঘটে। এছাড়া সংবাদপত্র, ম্যাপ এবং মাইক্রোফিল্মের আছে বড় একটা সংগ্রহ। যে কেউ এখানে এসে পড়াশোনা করতে পারেন। তবে কোনো বই বাসায় নেওয়া বা ফটোকপি করা যায় না। তবে ক্যামেরার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অংশের ছবি তুলে নেওয়া যায়। শুক্রবার ও শনিবার এবং অন্যান্য ছুটির দিন ছাড়া সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পড়া যায়। গ্রন্থাগারটি ৩২ বিচারপতি এস এম মোর্শেদ সরণি, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। ফোন : ৯১২৯৯৯২, ৯১১২৭৩৩।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৮৭ সালের ২৬ মার্চ এ গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হয়। এর সংগ্রহশালায় আছে প্রায় ১৫ হাজার বই। কেউ বাসায় নিতে চাইলে, বার্ষিক ১০০ টাকা চাঁদা দিয়ে সদস্য হতে হয়। এরপর ফেরতযোগ্য ১শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত নগদ জমা দিয়ে, সর্বোচ্চ চারটি বই ২০ দিনের জন্য বাসায় নেওয়া যায়। যেকোনো পাঠক খাতায় নাম লিপিবদ্ধ করে পাঠাগারটিতে পড়তে পারেন। শুক্র, শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিন বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এটি ৫/সি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তানে অবস্থিত। ফোন : ৯৫৫৫৭৪৩।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের তিন তলায় ১৯৭৫ সালে এ গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকেই ইসলাম ধর্মের নানা হাদিস এবং ইতিহাস জানার জন্য বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়েও সুরাহা পান না। এ সব বিষয়ে ইতিহাস, প্রবন্ধ, হাদিস, কোরআনসহ নানা বিষয়ে বিশাল সংগ্রহ রয়েছে এখানে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ গ্রন্থাগারে প্রায় ৭৫ হাজার বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। আসন সংখ্যা ২ শ হলেও_প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক পাঠকের সমাগম ঘটে। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে এশার নামাজের আগ পর্যন্ত এ লাইব্রেরি খোলা থাকে। ফোন : ৯৫৫৬৭২২।
রাজা রামমোহন লাইব্রেরি
পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলিতে ব্রাহ্মসমাজ ভবনের পাশেই একটি ভবনের দোতলায় এ পাঠাগারটির অবস্থান। এর পরিচালনাও করেন ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ। তবে এখন আর মানুষের পদচারণায় মুখর হয় না কক্ষটি। ঢাকার পুরোনো প্রসিদ্ধ এ গ্রন্থাগারটি সাত বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। জানা গেছে, ব্রাহ্মসমাজের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অভয় চন্দ্র দাস ১৮৭১ সালের ১৮ জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করেন এ পাঠাগারটি। তিনি ব্রাহ্ম মন্দিরের দোতালার একটি কক্ষে অল্প কিছু বইপত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯১০ সালে তৎকালীন আইসিএস ও ভাইসরয় কাউন্সিলের সদস্য কেজি গুপ্ত পাঠাগার ভবন উদ্বোধন করেন। তখন সংগ্রহশালায় বই ছিল ১০ থেকে ১২ হাজার। এ পাঠাগারে পড়তে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কবি বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হাই, সুফি মোতাহার হোসেন, বেগম সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমানের নাম উলেস্নখযোগ্য। তবে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে লুণ্ঠনের শিকার হয়। স্বাধীনতার পর আবার পাঠাগারটি খোলা হয়। তবে গত সাত বছর ধরে গ্রন্থাগারটি বন্ধ রয়েছে। গ্রন্থাগারটির সংশিস্নষ্টরা জানান, অচিরেই ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারটি পাঠকদের জন্য খুলে দিতে।
বার্ক লাইব্রেরি
বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বার্ক) লাইব্রেরি। এখানে কৃষিভিত্তিক বই এবং জার্নালের সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। আসন সংখ্যা ৫০। যে কেউ ইচ্ছা করলেই এ লাইব্রেরিতে পড়তে পারেন। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকার ভেতর এ গ্রন্থাগারের অবস্থান।
ফোন : ৯১৩২৪১৫।
নজরুল ইনস্টিটিউট
১৯৮৫ সালের ১২ জুন ধানমন্ডির কবি ভবনে এ গ্রন্থাগারটি স্থাপিত হয়। কাজী নজরুল ইসলামের সবকিছু একত্রে পেতে এ গ্রন্থাগারের তুলনা নেই। তার সাহিত্য, সংগীত, সম্পাদনা ও প্রকাশনা, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি,পত্রাবলি, বিভিন্ন রেকর্ডের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে গড়ে ওঠেছে এটি। এখানে তার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গবেষণাধর্মী বইও রয়েছে। এখানে বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার এবং আসন সংখ্যা ১০। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং অন্যান্য সরকারি ছুটিরদিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বাড়ি ৩০০বি, রোড ২৮ (পুরোনো), ধানমণ্ডি আ/এ-তে অবস্থিত। ফোন : ৯১১৪৬০২।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
'আলোকিত মানুষ চাই' শেস্নাগানকে লালন করে অধ্যাপক আবদুলস্নাহ আবু সায়ীদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর। ইতিমধ্যে এ পাঠাগারটি পাঠকের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। এখানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। সাধারণ সদস্য হওয়ার জন্য ২শ টাকা এবং বিশেষ সদস্যের জন্য ৪শ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হয়। মাসিক চাঁদা ১০ টাকা। সদস্যরা একসঙ্গে দুটি বই দুই সপ্তাহের জন্য পড়ার জন্য নিতে পারে। এ কেন্দ্রের রয়েছে বেশ কিছু ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি। এ বিষয়টি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর সদস্য হতে সাধারণ ১শ এবং বিশেষ ২শ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হয়। সদস্য না হয়েও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন যে কেউ বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বই পড়তে পারেন। ১৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, বাংলামোটরে এর অবস্থান। ফোন : ৯৬৬০৮১২।
ব্যান্সডক লাইব্রেরি
নানা বিজ্ঞান বিষয়ক বই, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা এবং গবেষণাপত্রের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে ব্যান্সডক লাইব্রেরিতে। এখানে সংগ্রহে আছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ের ২০ হাজার পাঠ্যবই এবং ২৫ হাজার জার্নাল। আসন সংখ্যা শতাধিক। প্রতিদিন দুই থেকে তিনশত পাঠক আসেন এখানে। গবেষকদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধাসংবলিত ৪০টি কম্পিউটার রয়েছে এর ল্যাবে। প্রয়োজনীয় অংশ ফটোকপিও করা যায়। শুক্র, শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পেতে পারেন এই লাইব্রেরির সেবা। বিসিএসআইআর ক্যাম্পাস (সায়েন্স ল্যাবরেটরি), মিরপুর রোডে এর অবস্থান।
ফোন : ৯৬৬৪২৫০, ৮৬১০২২৪।
ব্রিটিশ কাউন্সিল
ইংরেজি ভাষায় লিখিত আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক ও নন-একাডেমিক বইপত্র রয়েছে এখানে। সেইসাথে সাইবার ক্যাফে এবং ইংরেজি ভাষা শেখার সুবিধা পাওয়া যাবে। এই লাইব্রেরির বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। আসন সংখ্যা ৩শ হলেও প্রতিদিন ৫ শতাধিক পাঠক আসেন এখানে। ৫ ফুলার রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। ফোন : ৮৬১৮৯০৫-৭।
Source: Daily Ittefaq
Sunday, October 24, 2010
আহা! ফুটপাত
আবার, তখনকার দিনে বাহন হিসেবে ঘোড়ার প্রচলন ছিল বলে কেউ কেউ ফুটপাতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন_যেখানে মানুষ পায়ে হেঁটে, ঘোড়ায় চড়ে অথবা ছোট-যানবাহন নিয়ে চলাচল করে, তাহাই ফুটপাত।
সাধারণত মহাসড়ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফুটপাতের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। হাইওয়ে তৈরি হওয়ার ফলে দূরপালস্নার বিভিন্ন ভারি যানবাহনের কারণে স্থানীয় সাধারণ জনগণের চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই ফুটপাত তৈরির সূত্রপাত হয়। প্রথম দিকে মহাসড়কের সংস্কারের সময় ফুটপাতের ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। কিন্তু ১৯৪৭ সালের পর মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পার্ক ও বড় বড় সড়কগুলির সাথে ফুটপাত তৈরি করা হয়। তবে বর্তমানে শহরের ফুটপাতগুলোর চেহারা ফুটপাতের সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছে।
আমাদের সবার প্রিয় ঢাকা নগরীর ফুটপাতগুলোতে পথচারীরা বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটাচলা করছে। এতে একদিকে যানজট বাড়ছে, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। নগরীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শ্যামলী, মিরপুর, প্রেসক্লাব, পল্টন, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতগুলো অনেকটাই দখল হয়ে গেছে। এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের নানা ব্যবহার। যেমন_ফুটপাতের ওপর গাড়ি রাখা হচ্ছে, মোটরসাইকেল চলাচল করছে ফুটপাত দিয়ে, ফুটপাতের ওপর বসেছে দোকানপাট, অনেকে আবার দোকানের জিনিসপত্র রাখছেন ফুটপাতের ওপর, ফুটপাতের ওপর পত্রিকার স্টল ও টিকিট বাসের কাউন্টার, কিংবা ফুট ওভারব্রিজের বিম।
শহরে বসবাসকারী সবাই 'ফুটপাত' শব্দটির সাথে পরিচিত। এই ফুটপাতের পরিকল্পানাটি কিন্তু এসেছে মহাসড়ক নির্মাণের সূত্র ধরেই। পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটার উদ্দেশ্যেই ফুটপাত বানানো হয়। পথচারীদের জন্য ফুটপাত বানানো হলেও নগরীর ফুটপাতগুলো ব্যবহার হচ্ছে অন্য কাজে। অনেকেই ফুটপাত দখল করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করলেও তাদের সরানো হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে পুলিশ প্রশাসন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালালে কিছুদিন ফুটপাতগুলো ফাঁকা থাকে। তবে কয়েকদিন পর পুনরায় দখল হয়ে যায় বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের কাছে। ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের দুর্ভোগের কথা কেউ মাথায় রাখেন না।
ফুটপাতে গাড়ি পার্কিং
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সচেতন নাগরিক নিজের গাড়িটি ফুটপাতের ওপর পার্ক করে রেখেছেন। বিশেষ করে, নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের সামনেই ফুটপাতের ওপর গাড়ি পার্কিংয়ের দৃশ্য চোখে পড়ে। নগরীর মতিঝিল, অভিসার সিনেমা হলের সামনে, পুরানা পল্টন, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এলাকা, মহাখালি, ধানমণ্ডি, গুলশান ও কাকরাইল এলাকায় ফুটপাতে গাড়ি পাকিংয়ের চিত্র বেশি চোখে পড়ে। ফুটপাতের ওপর গাড়ি রাখার জন্য তাদের এতটুকু অনুশোচনা হয় না যে, তারা আইন মানছেন না। ফুটপাতে পার্কিংয়ের কারণে যানজটসহ পথচারীদের চলাচলের অসুবিধার কথা তাদের মনেই থাকে না।
ফুটপাতে মোটরসাইকেল
নগরীর মোটরসাইকেল চালকদের একটা কথা কখনোই মনে থাকে না যে, ফুটপাত দিয়ে তারা চলাচল করতে পারেন না। ফুটপাত হলো পথচারীদের চলাচলের নিরাপদ জায়গা। অথচ নগরে বের হলেই প্রতিটি সড়কে দেখা যায়, যানজট এড়াতে মোটরসাইকেল চালক ফুটপাতে উঠে পড়ছেন। পথচারী থাকায় তীব্র হর্ন বাজাচ্ছেন। এতে পথচারীদের সমস্যা হয় বলে ফুটপাত ছেড়ে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামেন। কয়েকজন মোটরসাইকেল চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এটা কোনো অপরাধ নয়। স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই তারা দেখেন ফুটপাত দিয়ে তাদের যাতায়াত।
ফুটপাতে ওভারব্রিজের বিম
যানবাহনের ভিড় এড়িয়ে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য ফুট ওভারব্রিজ বানানো হয়েছে। কিন্তু এই ওভারব্রিজগুলোও পথচারীদের চলার পথে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। কারণ, রাজধানীর বেশিরভাগ ফুট ওভারব্রিজের সিঁড়ি এসে মিলেছে রাস্তার পাশের ফুটপাতে। ফলে, ফুট ওভারব্রিজের নিচের ফুটপাতগুলো পথচারীরা ব্যবহার করতে পারছে না। ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে মোট ৪৯টি ফুটওভারব্রিজ রয়েছে। ফুট ওভারব্রিজগুলোর বেশিরভাগের সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে রাস্তার পাশের ফুটপাতে। ফলে ফুটপাতে হাঁটার জায়গা কমে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অনেক ফুটপাতে ফুটওভারব্রিজের সিঁড়িগুলোকে ঘিরে হকাররা ফুটপাতের বাকি অংশটুকু দখল করেছে। আবার কোনো কোনো ফুট ওভারব্রিজের সিঁড়ির নিচে ভ্রাম্যমান মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করায় পুরো ফুটপাতই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। নিউমার্কেটের দুই নম্বর গেটের ফুট ওভারব্রিজের সিঁড়ি ফুটপাতের বেশিরভাগ অংশ দখল করেছে। এ সুযোগে বাকিটুকু দখল করে নিয়েছে হকাররা। কল্যাণপুর ফুট ওভারব্রিজের দুই পাশের সিঁড়িও ফুটপাতে নামানো হয়েছে। উত্তর পাশের সিঁড়ির নিচে হকাররা বসেছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ফুট ওভারব্রিজের ফায়ার সার্ভিস প্রান্তের সিঁড়ি পুরো ফুটপাত দখল করে ফেলেছে। মিরপুর ১ নম্বর মোড়ের ওভারব্রিজের মুক্তি পস্নাজার পাশের ফুটপাতের বেশিরভাগ অংশজুড়ে আছে সিঁড়ি। ফুটপাতের বাকিটুকু দখল করেছে ফল ব্যবসায়ীরা। বাংলামোটর ওভারব্রিজের পূর্ব পাশের সিঁড়ির সংযোগ দেয়া হয়েছে নিউ ইস্কাটন রোডের পূর্ব পাশের ফুটপাতে। ফলে, ফুটপাতের পুরোটাই দখল হয়ে গেছে। পথচারীরা তাই ফুটপাতে না চলে রাস্তা দিয়ে হাঁটে। এই ফুটওভারব্রিজের পশ্চিম পাশের সিঁড়িও ফুটপাতে থাকায় সেখানেও পথচারীরা হাঁটতে পারে না। কারওয়ান বাজারের পশ্চিম তেজতুরী বাজার ফুটওভারব্রিজের সিঁড়িও তৈরি করা হয়েছে দুই পাশের ফুটপাতে। প্রশস্ত সিঁড়িগুলো পুরো ফুটপাতই দখল করে ফেলেছে। ফলে সিঁড়ির নিচের অংশের ফুটপাত দিয়ে লোকজন হাঁটতে পারে না। সায়েন্স ল্যাবরেটরি ফুটওভারব্রিজের পূর্ব প্রান্তের ফুটপাতে হাঁটার একটু জায়গাও বাকি নেই। ফুটপাতে ফুট ওভারব্রিজ তৈরির বিষয়ে নগরবিদদের ভাষ্য, জনবহুল ক্রসিংগুলোয় পথচারীদের রাস্তা পারাপারের জন্য ফুট ওভারব্রিজ দরকার। তবে তা কখনোই ফুটপাতে করা উচিত নয়। পৃথিবীর কোথাও এরকম ফুটপাতের ওপর ওভারব্রিজ বানানোর নজির নেই। এক্ষেত্রে ফুটপাতের পাশের জায়গা অধিগ্রহণ করে সেখানে ফুট ওভারব্রিজ বানানো যেতে পারে। আর জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার যে কারো জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। ডিসিসি'র সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা জানান, ফুটপাতে হাঁটার জায়গা নিশ্চিত করা পথচারীদের অধিকার। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তা পালন করার উপায় নেই। মূলত দুই পাশের জায়গার অভাবেই ফুটপাতে ওভারব্রিজের সিঁড়ি নামানো হচ্ছে।
ফুটপাতে খাবারের দোকান
নগরীর বিভিন্ন স্থানেই ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান। এগুলোর কোনোটা ভ্রাম্যমান, আবার কোনোটা স্থায়ী। রাজধানীর প্রেসক্লাব, পল্টন, কারওয়ান বাজার, গুলিস্তান, মিরপুর, মগবাজার, মালিবাগসহ সবখানেই এরকম দোকানপাট দেখা যায়। কোথাও চায়ের দোকান, কোথাও ফলের দোকান রয়েছে। আবার কোথাও বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন হকাররা। এসব দোকান ও হকারদের জন্য পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারে না।
ফুটপাতে থাকে মালপত্র
রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকাতেই ফুটপাত সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালপত্র তারা ফুটপাতেই রাখেন। এর মধ্যে কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, বাড্ডা, গুলিস্তান, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, হাজিপাড়া, মোহাম্মপুর, শ্যামলী, হাজারীবাগ এলাকায় ফুটপাতের ওপর দোকানের মালপত্র রাখতে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকাতেও রয়েছে এই সমস্যা। এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দোকানের সামনে খালি জায়গা নেই। তাই তারা মাঝেমধ্যে ফুটপাতের ওপর কিছু মালপত্র রাখেন। তাদের কাছে এটা দোষের কিছু নয়। তাদের মালপত্র রাখার কারণে পথচারীদের হাঁটতে অসুবিধা হয়-তা জেনেও তারা সেই কাজটি করে চলেছেন দিনের পর দিন।
ফুটপাতে টিকিট কাউন্টার
নগরীর অনেক স্থানেই ফুটপাত দখল করে টিকিট বাসের কাউন্টার গড়ে উঠেছে। শুধু ফুটপাত নয় অনেক স্থানে রাস্তা দখল করে রীতিমত চলে তাদের সার্ভিস ব্যবসা। রাজধানীর প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, কাকরাইল, মালিবাগ, মগবাজার, বাংলা মোটর, শাহবাগ, ফার্মগেট, শ্যামলী, মিরপুর, গাবতলী, সায়েদাবাগ, বনানীসহ আরো অনেক এলাকাতেই রয়েছে টিকিট বাস সার্ভিসের কাউন্টার। এ সব কাউন্টারের জন্য পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারে না। কয়েকটি বাস সার্ভিসের টিকিট কাউন্টার ম্যানেজারের সাথে কথা বললে তারা জানান, নাগরিকদের সুবিধার জন্যই তাদের এই সার্ভিস। কাউন্টার করার জায়গা না থাকলে কোথাও যাবে তারা।